Monday, July 13, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডুয়েট: ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২০

ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠে

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। 

সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০টা থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে উঠে। 

সংঘর্ষে গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদেরকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে জানায়, নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিভিন্ন বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আন্দোলন অব্যাহত থাকে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টানিয়ে দেন। সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। সকাল ১০টার দিকে নতুন উপাচার্য মোহাম্মদ ইকবাল ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর আগেই প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে স্বাগত জানাতে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ফটক খুলে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। 

পরে, ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী ও বহিরাগত ব্যক্তিদের একটি অংশ বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরে বাইরে অবস্থান নেওয়া পক্ষও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

এরপরে, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আগুন জ্বালানো হয়। কয়েক ঘণ্টা থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে রবিবার (সংবাদ লেখা পর্যন্ত) সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। 

এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ডুয়েটের পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা, দলবাজি, অনৈতিকতা, স্বেচ্ছাচারি নিয়োগসহ নানা অভিযোগ আছে। বিদায়ী প্রশাসন ও গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবির মিলে একত্রে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যেই চার দিন ধরে জোরপূর্বক আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির করে রাখা হয়েছে।” 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির গুপ্ত সংগঠনের এধরণের অপতৎপরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ ডুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল, যুবদল ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সংঘবদ্ধ বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে দিয়েছেন। 

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন নতুন উপাচার্য মোহাম্মদ ইকবাল। 

ডুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. আবু তৈয়ব বলেন, “সংঘর্ষের সময় নতুন উপাচার্য নিরাপদে ছিলেন। পরে বিকেলে সাবেক উপাচার্য জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।” 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গেটের ভেতরে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পাঁচ পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।” 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। নিয়োগের পরপরই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত। 

   

About

Popular Links

x