বিদেশী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ভিসায় নতুন নিয়ম চালু করেছে যুক্তরাজ্য। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই নীতি চালু হবে।
এই নিয়মের কারণে আগে শিক্ষার্থীরা যেসব সুবিধা পেতেন, নতুন শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধা পাবেন না। অভিবাসী কমাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়া শিক্ষার্থীরা এই নিয়মের আওতায় আসবেন না। যারা নতুন করে সেখানে যেতে চান তাদের ওপর এই নীতি প্রয়োগ করা হবে।
ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৬,৫৮৬ শিক্ষার্থী পড়ার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। আর এই নীতির আওতায় থাকবে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য গমনেচ্ছুরাও।
২০২৪ সাল থেকে স্নাতকোত্তর গবেষণা ডিগ্রিতে পড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরাই পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে নিতে পারবেন। এর বাইরে কোনো শিক্ষার্থী পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে আনা ওই নীতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীরা নিজের পড়াশোনা শেষ করে তারপর চাকরিতে ঢুকতে পারবেন।
এই পরিবর্তনের কারণে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিদেশী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা শুরুর পরপরই পরিবারের সদস্যের জন্য ভিসা পাবেন না।
তবে যারা এই তারিখের আগে পড়াশোনা শুরু করেছেন তারা পরিবারের সদস্যের জন্য ভিসা পাবেন। সেটি মূল ভিসাধারীর মেয়াদের সমান সময়ের জন্য পাওয়া যাবে।
যুক্তরাজ্যে শিক্ষা ভিসা থেকে কাজের ভিসা পাওয়াকে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা (পিএসডব্লিউ) বা ইউকে গ্র্যাজুয়েট ভিসা পাওয়া বলা হয়। এর মাধ্যমে ভিসাধারী তার পরিবারের সদস্যের জন্য ভিসার জন্য আবেদন করার অনুমতি পান। পরিবারের সদস্যও ওই শিক্ষা ভিসাধারীর আওতায় সেখানে অবস্থান করতে পারেন।
নতুন নিয়মে নির্ভরশীল ভিসা থেকে কাজের ভিসা আবেদনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নির্ভরশীল ভিসায় থাকা একজন শিক্ষার্থী দক্ষ কর্মী হলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করে কাজের ভিসার আবেদন করতে পারেন।
নতুন ভিসা নীতির অধীন অভিবাসীদের ওয়ার্ক ভিসা পেতে আরও বেশি করে আয় করতে হবে।
শিক্ষার্থীর জন্য নিয়োগকর্তার কাছ থেকে স্পনসর লাইসেন্সসহ চাকরির প্রস্তাব, ন্যূনতম বেতন ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতার মান সন্তোষজনক থাকতে হবে।
শিক্ষা ভিসায় থাকা শিশুর বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে নিয়মের ভিন্নতা রয়েছে। তারা শুধু দক্ষ কর্মী ভিসায় যাওয়ার অনুমতি পাবেন না।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ জন্য একটি চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে, বেতনের মানদণ্ড পূরণ ও ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হবে।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদেশী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে গ্রহণে যুক্তরাজ্যের নীতির ব্যাপক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। নতুন এই নিয়মে অনেকেই বাধার সম্মুখীন হবেন।
ব্রেক্সিটের পর থেকে, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের অবাধ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবুও ইউক্রেন, হংকং ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের কারণে এ বছর নেট মাইগ্রেশন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তারা অনেকেই বেসপোক ভিসা স্কিমের সুবিধা নিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে, বিশেষ করে ভারত ও নাইজেরিয়া থেকে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীলদের জন্য ২০২২ সালে প্রায় ১৩৬,০০০ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। যা ২০১৯ সালের ১৬,০০০ থেকে আট গুণ বেশি।
২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় ছিল ইইউ থেকে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন। তবে ২০১৮ সাল থেকে আশ্রয়ের জন্য হাজার হাজার মানুষ নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে ঢুকেছেন।



