খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েটে) বন্ধের সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় একাডেমিক কার্যক্রম ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
কুয়েটের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পবিত্র রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি। এ হিসেবে আগামী ৭ এপ্রিল একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর দিন। এ অবস্থায় দীর্ঘ বন্ধের কবলে শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছেন।
কুয়েটর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সে হিসেবে ১ মার্চ একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ১ মার্চ থেকে কুয়েটে রমজানের ছুটি। যা ঈদ-উল-ফিতর মিলিয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত গড়াবে। ৭ এপ্রিল পরিস্থিতি বিবেচনায় একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে।”
কুয়েট জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা ডিভিশনের পাবলিক রিলেশন অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহেদুজ্জামান শেখ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সিণ্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ। এ সময়ে ছাত্ররা হলে সব ধরনের সহায়তা পাবেন। ক্যাম্পাসে ছাত্রদের নিরাপত্তার জন্য সিণ্ডিকেট সভা থেকে বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর হলগুলোতে ক্যান্টিন চালু আছে। তবে ৩০% শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। ৭০% শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে রয়েছেন। কিন্তু তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। কারণ ১৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় হলগুলোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহিরাগতরা অনায়াসেই যেকোনো ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারবে। তাই আতঙ্ক-উদ্বেগ রয়েছে। আর রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরের ছুটির কারণে ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় হলের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়ার পক্ষে। কিন্তু কয়েক দিন পর হল ত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে শিক্ষার্থীরা।”
উল্লেখ্য, কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঘিরে ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে আহত হন অর্ধশত শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েট মেডিকেল সেন্টারসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়।
১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ছাত্ররা সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানায়। পাশাপাশি দাবি না মানায় ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
এদিকে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে কুয়েট উপাচার্যকে মেডিকেল সেন্টারে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থাতেই তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারির জরুরি সিণ্ডিকেট সভায় অনলাইনে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। ২১ ফেব্রুয়ারি তার ক্যাম্পাসে ফেরার কথা রয়েছে।



