ভারতে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু পেজ ও আইডি থেকে তার মৃত্যুর ভুয়া ফটোকার্ড শেয়ার করে গুজব ছড়ানো হয়, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার স্বজনরা।
কারিনা কায়সারের বাবা এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ এই অপপ্রচারে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে মৃত্যুর মতো একটি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এ ধরনের নোংরা ব্যবসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, পরিবারটি এমনিতেই কারিনার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে সবার কাছ থেকে ইতিবাচক মানসিক সমর্থন প্রয়োজন।
বর্তমানে কারিনা কায়সার ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কায়সার হামিদ জানান যে কারিনার ফুসফুসের ইনফেকশন ধীরে ধীরে রিকভারি করছে। এরপর তার লিভারের চিকিৎসা শুরু হবে। ইতিমধ্যে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে এবং ডোনার হিসেবে তার দুই ভাইয়ের কিছু টেস্ট করা হয়েছে যার রিপোর্ট আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে।
এর আগে তীব্র জ্বর ও পরবর্তীতে হেপাটাইটিস এ এবং ই জটিলতার কারণে কারিনার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট দিয়ে পরিচিতি পাওয়া কারিনা কায়সার সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও নাটকে অভিনয় এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার অভিনীত ও লিখিত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ এবং ৩৬-২৪-৩৬। তার অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর থেকেই বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মী এবং ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।



নানাবাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কারিনা