বাংলাদেশের বিনোদন জগতে তাহসান খান একটি সুপরিচিত নাম। অভিনয় হোক কিংবা সঙ্গীতাঙ্গন, দুই জায়গায়ই তিনি দারুণ সফল। তবে নিজের সর্বশেষ গান “হারাই বহুরুর” নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন খ্যাতনামা এ কণ্ঠশিল্পী।
ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইবট স্টুডিওতে নির্মিত গানের ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন আগা নাহিয়ান আহমেদ। সুস্মিতা আনিসের সঙ্গে গাওয়া এ দ্বৈত গানের মিউজিক ভিডিওর চিত্রনাট্য প্রখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্য আরএমের বুনো ফুল থেকে নকল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিটিএস ভক্তরা তো বটেই, কোরিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলোও বিভিন্ন নিবন্ধে এ সম্পর্কে কথা বলেছে।
প্লেজারিজম তথা নকলের বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে গানটির ভিডিও সরিয়ে দেন তাহসান খান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গানটির চিত্রনাট্য নকল করা হয়েছে, সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা ছিল না।
তাহসান আরও বলেন, যখন আমি এ সম্পর্কে (প্লেজারিজম) জানতে পারি, তখন তা আমার অনুভূতিকে সম্পূর্ণরূপে মাটি করে দেয়। আমি অবিলম্বে ভিডিও নির্মাতাদের তিরস্কার করি। আমি শুধু তাদের আমার কাছেই না, ভক্তদের কাছেও ক্ষমা চাইতে বলি।
২০২৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে ২০ বছর পূর্ণ হলো। ইন্ডাস্ট্রিতে দুই দশক পূর্তির উপলক্ষটি এমন এক ঘটনায় সম্পূর্ণরূপে বানচাল হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। হতাশ তাহসান বলেন, “বিষয়টি আমার জন্য খুবই হতাশাজনক, সেটিও একটি গানে যেখানে আমি মিনারের সঙ্গে কাজ করেছি। এক দশকেরও বেশি সময় আগে তার সঙ্গে আমি দুটি অ্যালবাম করেছিলাম। এ গানটিকে আমাদের দুজনের জন্যই হৃদয়গ্রাহী মুহূর্ত বলে ধারণা করা হয়েছিল।”
তাহসান বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে বিরক্ত হলেও মিউজিক ভিডিওটির পরিচালক আগা নাহিয়ান আহমেদ বিটিএস ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এখানে ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। আমি কোনো ভুল করিনি। এটিকে বিটিএস দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি পরিবেশনা হিসেবে দেখা যেতে পারে। আমরা ইতোমধ্যেই প্রশ্নবোধক অংশগুলো বাদ দিয়ে মিউজিক ভিডিওটি পুনরায় আপলোড করেছি। এটি কোনোভাবেই অনুলিপি নয়।”



