অক্ষয় কুমারের সাম্প্রতিক সময়টা তেমন ভালো যাচ্ছে না। কিংবদন্তি এ অভিনেতার সর্বশেষ কয়েকটি সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তবে ব্যর্থতার এ সময়টাকে শিক্ষা সফর হিসেবে মেনে নিচ্ছেন এ অভিনেতা।
সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অক্ষয় কুমার। সেখানে তিনি বলেন, “আপনার যে নিজেকে পরিবর্তনের সময় এসেছে, বক্স অফিসের ব্যর্থতা সেটিরই ইঙ্গিত দেয়। কারণ দর্শক আপনার সিনেমার সঙ্গে নিজের সংযোগ ঘটাতে পারেননি।”
বক্স অফিস ব্যর্থতা ব্যথিত করে কি-না জানতে চাইলে ৫৫ বছর বয়সী এ অভিনেতা বলেন, “অবশ্যই করে। আমাদের ভাঙাগড়া তো এর ওপরেই নির্ভর করে। এটাকেই তো আমরা হিট বা ফ্লপ বলি। দর্শকই আমাদের বলে দেয় আমরা কখন সঠিক পথে কিংবা ভুল পথে চলছি।”
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অক্ষয় বলেন, “প্রেক্ষাগৃহে দর্শক না আসার অর্থ সিনেমা ভালো হয়নি। অর্থাৎ দর্শকের সঙ্গে সিনেমার সংযোগ তৈরি হয়নি। দর্শক না এসে বুঝিয়ে দেয়, ভালো কাজ করতে হবে। যার অর্থ নিজেকে পরিবর্তনের সময় এসেছে।”
কোভিড মহামারির পূর্ববর্তী সময়ে বলিউডের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিলেন অক্ষয় কুমার। ২০১৯ সালে “কেসারি”, “মিশন মঙ্গল”, “হাউজফুল ৪”, “গুড নিউজ”- এর মাধ্যমে এক পঞ্জিকাবর্ষে বক্স অফিসে চার সিনেমার দুর্দান্ত ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন।
২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “সূর্যবংশী” বক্স অফিসে সফল হলে অক্ষয়ের কোভিড পরবর্তী প্রত্যাবর্তনও দারুণ হয়েছিল। কিন্তু এরপরই অক্ষয়ের ক্যারিয়ারে ছন্দপতন। ২০২১ সালের পর তার সবগুলো সিনেমাই ব্যবসায়িকভাবে অসফল।
২০২২ সালে অক্ষয় কুমার অভিনীত পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু তার অভিনীত “বচ্চন পান্ডে”, “সম্রাট পৃথ্বীরাজ”, “রাম সেতু”, “কাটপুতলি”, “রক্ষা বন্ধন”- প্রতিটি সিনেমায় দর্শক-সমালোচক দুই মহলেই সমালোচিত হয়ে বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
অক্ষয়ের জন্য ২০২৩ সালটাও ব্যর্থতা দিয়েই শুরু হয়। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত “সেলফি” সিনেমাও বক্স অফিসে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এরপরই অক্ষয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সমালোচকরা।
তবে দীর্ঘ ২২ বছরের ক্যারিয়ারে অক্ষয়ের দুঃসময় এটিই প্রথম না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে টানা ১৬টি সিনেমা ফ্লপ হয়েছিল অক্ষয়ের। একবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকেও একপর্যায়ে তার পরপর ৮টি সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। যদিও প্রতিবারই ব্যর্থতা কাটিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন।
অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে জীবন গেছে উল্লেখ করে অক্ষয় জানান, কোনোকিছু ঠিকভাবে না চললে আর দশজন মানুষের মতো তারও মন খারাপ হয়। তবে দ্রুত সেই দুঃসময় কাটিয়ে সামনে এগিয়ে চলার সক্ষমতা আছে বলেই তিনি নিজেকে নিয়ে গর্বিত।
অক্ষয় বলেন, “আমি খুব দ্রুত এগিয়ে যেতে পারি। আমি প্রথম যেদিন কাজ শুরু করেছিলাম, আমার মধ্যে থাকা সেদিনের সেই ইচ্ছাশক্তি আজও অটুট রয়েছে। আমি কাজ করতে ভালোবাসি। আমার কাছ থেকে এটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আপনাকে শুধু এগিয়ে যেতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।”
২০২৩ সালে অক্ষয় কুমারকে “ওহ মাই গড ২” সিনেমায় দেখা যাবে। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ১১ আগস্ট। পাশাপাশি টিনু সুরেশ দেশাই পরিচালিত ও পরিণীতি চোপড়ার বিপরীতে তার অভিনীত “দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান রেসকিউ” সিনেমাটি আগামী ৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে। এছাড়া, অক্ষয়ের হাতে রয়েছে “বড়ে মিয়া ছোটে মিয়া”, সুরারাই পত্রুর হিন্দি রিমেক ও “হেরা ফেরি ৩”।



