সত্য ঘটনা নিয়ে বলিউডে বিভিন্ন সময়েই চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক কোনো অর্জনই এক্ষেত্রে নির্মাতাদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে থাকে।
চাঁদের বুকে চন্দ্রযান-৩ মহাকাশযানের সফল অবতরণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারতের চন্দ্রজয় নিয়েও কোনো সিনেমা নির্মিত হবে বলে অনুমান ছিল অনেকেরই।
শেষ পর্যন্ত হচ্ছেও তাই। বলিউডের অনেক পরিচালক ও প্রযোজনা সংস্থা ইতোমধ্যেই ভারতের চন্দ্রজয় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে পরিকল্পনা করছেন। কেউ কেউ তো সিনেমার নাম নিবন্ধনের জন্যও আটঘাঁট বেঁধে নেমেছে।
মুম্বাইয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টিভি প্রযোজকদের পরিষদের (আইএফটিপিসি) কার্যালয় ও ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমপিএএ) কাছে এরই মধ্যে চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক নাম নিবন্ধনের জন্য অনুরোধের ঢল নেমেছে।
ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, অনেক প্রযোজক-নির্মাতাই চন্দ্রযান ৩, মিশন চন্দ্রযান-৩, বিক্রম ল্যান্ডার, চন্দ্রযান-৩: দ্য নিউ চ্যাপ্টার, ভারত চাঁদ পারসহ অনেক নামেই সিনেমা নির্মাণের ব্যাপারে আগ্রহী।
আইএমপিএএ আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আসা অনেক আবেদন আগামী সপ্তাহেও পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার শেষে মাত্র কয়েকটি সিনেমার আবেদন অনুমোদন পাবে।
চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান-৩ মহাকাশযানের সফল অবতরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং রাজনীতিবিদ হেমা মালিনী। পাশাপাশি এই চন্দ্র অভিযানের ওপর ভিত্তি করে সিনেমা নির্মিত হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন।
হেমা মালিনী বলেন, আমাদের ভারতের অনেক উন্নতি হয়েছে দেখে খুব খুশি লাগছে। ভারত চাঁদ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা দেশের সব নাগরিকদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের জন্যও আনন্দের ব্যাপার। এই অর্জনে আমরা সবাই গর্বিত। চন্দ্রযান-৩ মিশনের ওপর অবশ্যই একটি সিনেমা তৈরি হবে।”
বুধবার (২৩ আগস্ট) ভারতের স্থানীয় সময় ৬টা ৪ মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-৩ অবতরণ করে। ল্যান্ডার বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া ৫টা ৪৫ মিনিটে শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের প্রখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাইয়ের (১৯১৯-১৯৭১) নামে ল্যান্ডারটির নামকারণ করা হয়েছে। ল্যান্ডারে থাকা প্রজ্ঞান নামের রোভারই চাঁদের ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে; এমনকি বিভিন্ন ছবি ও তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে।
গত ১৪ জুলাই দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের “লঞ্চিং প্যাড” থেকে সফল উৎক্ষেপণ হয় চন্দ্রযান-৩। মোট দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রম করেছে মহাকাশ যানটি। উৎক্ষেপণের ২২ দিন পর চন্দ্রযান-৩ পৌঁছেছে চাঁদের কক্ষপথে। তার আগে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ বলের টানে কক্ষপথে ঘুরছিল।
চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান-৩ অবতরণের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনলাইনে যোগ দেন। সম্প্রচার দেখার জন্য সন্ধ্যার সময় স্কুল খোলা রাখা হয়। সংবাদপত্র এবং নিউজ চ্যানেলজুড়েও ছিল ব্যানার শিরোনাম ও অবতরণের ক্ষণগণনার টাইমার।



