Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তবে কি শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির শপথ অবৈধ?

নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করে কাজী হায়াতকে দিয়ে শপথ পড়ানোয় বিতর্ক

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৯ পিএম

চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ বরাবরই একটু বেশি। আর তাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে মানুষের বেশ আগ্রহ। গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচন। এর আগের মেয়াদের নির্বাচনে বেশ কাদা ছোড়াছুড়ি হলেও এবারের নির্বাচন বেশ শান্তিপূর্ণ হওয়ায় শিল্পী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমী সবাই বেশ খুশি ছিলেন।

তবে সেই খুশি খুব বেশি স্থায়ী হয়নি। নতুন কমিটির শপথের দিনেই ঘটে গেছে অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) এফডিসিতে শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির শপথ অনুষ্ঠান শেষে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউটিউবার, সাংবাদিক ও শিল্পীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

মারামারির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই সমালোচনা উঠেছে নতুন কমিটির শপথ অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া নিয়ে।

সেদিন নব-নির্বাচিত সভাপতি মিশা সওদাগরকে শপথবাক্য পাঠ করান নন্দিত পরিচালক কাজী হায়াত। এরপর কমিটির অন্যান্য সদস্যদের শপথ পড়ান সভাপতি মিশা সওদাগর।

তবে এই বিষয়টি নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনারের শপথবাক্য পাঠ করানোর কথা। নির্বাচন কমিশনার প্রথম সভাপতিকে শপথ করাবেন, এরপর সভাপতি কমিটির অন্যদের শপথ পড়াবেন। কোনো কারণে যদি, নির্বাচন কমিশনার শপথবাক্য পাঠ করাতে অপারগ হন, সেক্ষেত্রে সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি শপথ পড়াবেন।

এবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী তারই নব-নির্বাচিত সভাপতিকে শপথ পড়ানোর কথা। তিনি না পারলে সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চনের শপথ পড়ানোর কথা। কিন্তু এই দুইজনকে উপেক্ষা করে কাজী হায়াতকে দিয়ে শপথ পড়ানোর বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছেন না অনেকেই। সেদিন খোরশেদ আলম খসরু এফডিসিতে উপস্থিত থাকার পরও তাকে দিয়ে শপথ না পড়ানোয় বিতর্ক বেড়েছে আরও। এমনকি বিষয়টিকে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের খেলাপ বলেও মন্তব্য করেছেন শিল্পী সমিতির অনেক সদস্য।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোরশেদ আলম খসরু নিজেও। এ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভির সঙ্গে। খসরু জানান, এ ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

দেশ টিভিকে তিনি বলেন, “শপথের দিন আমি উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু আমাকে ডাকেনি। এটা সংগঠনগুলোর এটা একটি নিয়ম, যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিনি শপথবাক্য পাঠ করান। সেখানে আমি থাকা অবস্থায় যখন দেখলাম, তারা আমাকে কিছু বলছে না, ডাকছে না। যখন কাজী হায়াৎ সাহেবের নাম ঘোষণা দিল, তখন আমি চলে এলাম, কিছুটা অপমানিত বোধ করে চলে এলাম। আমার মেয়াদকাল ছিল। কাজী হায়াতের কি মেয়াদ আছে?”

ক্ষোভপ্রকাশ করে খোরশেদ আলম খসরু বলেন, “এটা সংকীর্ণ মনমানসিকতার পরিচয় ছাড়া কিছুই নয়। হয়ত ইশারা-ইঙ্গিতে হয়েছে। কারণ, আগের দিনই সভাপতি বলেছে, শপথ আমিই পড়াব। তারপর সেখান থেকে সরে আসছে। ওনার কথামতো আমি উপস্থিত ছিলাম। এটা তো নিয়ম। নির্বাচন কমিশন অপারগতা প্রকাশ করলে আগের মেয়াদের সভাপতি দিয়ে পড়ানোর কথা। তখন ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেব পড়াতেন। এটাই নীতি। কিন্তু তারা যা খুশি তা-ই করল।”

এ সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে এই প্রযোজকনেতা বলেন, “নির্বাচিত সব সদস্যরা কীভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাল? এটা সম্পূর্ণই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। এটা হওয়া উচিত ছিল না। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবশ্যই ধৈর্যশীল হওয়া উচিত ছিল। একজন সাংবাদিকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবার রক্ত ঝরাবে, সেটা হতে পারে না। প্রয়োজনে ওই সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে বোঝাতে পারত, তাকে নিয়ে বসতে পারত। সেটাও করেনি। তা না করে বিষয়টা মারামারির পর্যায়ে গেল, এটা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা।”

এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে সংগঠনের নিয়ম উপেক্ষা করায় শিল্পী সমিতির অনেক সদস্যদের মধ্যে যেমন অসন্তোষ চলছে, একইভাবে বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির শপথ অনুষ্ঠান অবৈধ?

যদিও এ বিষয়ে শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাদের আপাতত ব্যস্ততা মারামারির ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানকে কেন্দ্র করে।

   

About

Popular Links

x