বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম এবং ঘামে ভেজা অস্বস্তিকর দিন। এই সময়ে বাইরে বের হওয়া অনেকের জন্যই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তবে কিছু সাধারণ অভ্যাস ও আগাম প্রস্তুতি নিলে গরমের প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে বাইরে যাওয়ার আগে শরীরকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করে বের হলে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচা যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাইরে যাওয়ার আগে অন্তত এক থেকে দুই গ্লাস পানি, লেবুর শরবত বা ডাবের পানি পান করা উপকারী।
পোশাক নির্বাচনও গরমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢিলেঢালা, সুতির ও হালকা রঙের পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ঘাম সহজে শোষণ করে।
সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পেতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। বাইরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে এস পি এফ ৩০ বা তার বেশি মানের সানস্ক্রিন মুখ, হাত ও খোলা অংশে লাগানো উচিত।
এছাড়া ছাতা, ক্যাপ বা সানগ্লাস ব্যবহার করলে সরাসরি রোদ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। এটি চোখ ও ত্বকের জন্যও উপকারী।
খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বাইরে যাওয়ার আগে ভারী বা তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার যেমন ভাত, সবজি ও ফলমূল খাওয়া ভালো। তরমুজ, শসা ও পেঁপের মতো ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
গরমে বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে পানির বোতল, টিস্যু, ওয়েট টিস্যু ও ছোট ফ্যান রাখা যেতে পারে। এগুলো অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময়টুকুতে বাইরে না যাওয়াই ভালো, কারণ এই সময় সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। সম্ভব হলে সকাল বা বিকেলের ঠান্ডা সময়ে কাজ সেরে নেওয়া উচিত।
শরীরের সংকেতও উপেক্ষা করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব করলে দ্রুত ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া ও পানি পান করা জরুরি।
গরমে হালকা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলে ঘামের দুর্গন্ধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তবে অতিরিক্ত তীব্র সুগন্ধি এড়িয়ে চলা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিক প্রস্তুতি। গরমে কিছুটা অস্বস্তি থাকবে এটা মেনে নিয়ে প্রস্তুত থাকলে পরিস্থিতি সহজে সামলানো যায়।
সামান্য এই সচেতনতা ও প্রস্তুতিই গরমের কষ্ট অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত পানি পান, সঠিক পোশাক ও সূর্য থেকে সুরক্ষা এই ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ ও স্বস্তিতে।



