হঠাৎ যদি কেউ জানতে পারেন, তার ক্যানসার হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই তিনি দ্রুত তথ্য খুঁজতে চাইবেন। অনেকেই এখন ডাক্তারের আগে ভরসা করেন এআই চ্যাটবটের ওপর। কয়েক সেকেন্ডেই চ্যাটবট সুন্দরভাবে সাজানো উত্তর দেয়, এমনকি বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়া সূত্রও দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, এই তথ্যের একটি বড় অংশই ভুল বা ভিত্তিহীন হতে পারে আর ব্যবহারকারী সেটা বুঝতেও পারেন না।
সম্প্রতি সাতজন গবেষকের একটি দল জনপ্রিয় পাঁচটি এআই চ্যাটবটকে স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা প্রশ্ন করে পরীক্ষা চালান। ক্যানসার, টিকা, পুষ্টি, স্টেম সেল ও খেলাধুলার পারফরম্যান্স এই বিষয়গুলোতে ২৫০টি প্রশ্ন করা হয়। ফলাফল ছিল উদ্বেগজনক। প্রায় ২০ শতাংশ উত্তর পুরোপুরি ভুল, অর্ধেক উত্তরে উল্লেখযোগ্য সমস্যা, আর মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তর তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ছিল।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, চ্যাটবটগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন সব তথ্য ও রেফারেন্স দেয়, যেগুলোর অনেকই বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। ভুল লেখকের নাম, অকার্যকর লিংক, এমনকি সম্পূর্ণ বানানো গবেষণাপত্রও দেখা গেছে। অথচ সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে এগুলো খুবই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।
সহজ ‘হ্যাঁ বা না’ ধরনের প্রশ্নে ভুল কম হলেও, বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন এমন প্রশ্নে ভুলের হার অনেক বেশি। অথচ বাস্তবে মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে এমন প্রশ্নই বেশি করে যেমন কোন সাপ্লিমেন্ট ভালো, বা কোন চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর।
এই সমস্যার পেছনে মূল কারণ হলো, এআই আসলে নিজে কিছু জানে না। এটি কেবল বিভিন্ন উৎস থেকে শেখা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য শব্দ সাজিয়ে উত্তর তৈরি করে। সেই উৎসগুলোর মধ্যে যেমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা থাকে, তেমনি থাকে সামাজিক মাধ্যমের বিভ্রান্তিকর তথ্যও।
তবে এআই পুরোপুরি অকার্যকর নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে প্রশ্ন করা হলে বা পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হলে এআই অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল দিতে পারে। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীরা সবসময় সেইভাবে প্রশ্ন করেন না, ফলে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বাড়ে।
সব মিলিয়ে বার্তাটা পরিষ্কার এআই চ্যাটবট তথ্যের সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভরসা হওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ব্যবহার করার আগে অবশ্যই তা যাচাই করা জরুরি এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।



