Thursday, July 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গ্লাস স্কিনের দিন শেষ? এখন নতুন বিউটি ক্রেজ ‘ক্লাউড স্কিন’

গ্লাস স্কিনের মতো এতে অতিরিক্ত উজ্জ্বলতার ওপর জোর দেওয়া হয় না

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

বিগত কয়েক বছর ধরে রূপচর্চায় রাজত্ব করছিল কোরিয়ান ‘গ্লাস স্কিন’। কোরিয়ান স্কিনকেয়ার থেকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই ট্রেন্ডের মূল আকর্ষণ ছিল আয়নার মতো উজ্জ্বল, ডিউই বা শিশিরভেজা ত্বক। তবে ২০২৬ সালে এসে সৌন্দর্যপ্রেমীরা এখন ঝুঁকছেন সম্পূর্ণ নতুন একটি ট্রেন্ডের দিকে। ফ্যাশন ও রূপচর্চার নতুন এই ক্রেজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড স্কিন’। 

এই লুকের মূল বৈশিষ্ট্য হলো মেঘের মতো নরম, মসৃণ ও স্বাভাবিক দেখানো ত্বক। গ্লাস স্কিনের মতো এতে অতিরিক্ত উজ্জ্বলতার ওপর জোর দেওয়া হয় না। বরং ফোকাস থাকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক তৈরির দিকে। বিউটি লাভারদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই ট্রেন্ড মূলত তাদের জন্য, যারা ‘পারফেক্টলি ইমপারফেক্ট’ সৌন্দর্যে বিশ্বাস করেন।

ক্লাউড স্কিন আসলে কী?

বিউটি বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড স্কিন হলো এমন এক জাদুকরী লুক যেখানে ত্বকের প্রকৃত সৌন্দর্যকে আড়াল না করে আরও পরিশীলিতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। এটি অতিরিক্ত চকচকেও নয়, আবার পুরোপুরি নিষ্প্রাণ ম্যাট ফিনিশও নয়। বরং দুটি টেক্সচারের এক চমৎকার ভারসাম্য। এর ফলে ত্বকের ছোটখাটো খুঁতগুলো হালকা ‘ব্লার’ বা ঝাপসা হয়ে যায়, কিন্তু ত্বক ভারী মেকআপের স্তরে ঢাকা পড়ে না।

কেন বদলাচ্ছে বিউটি ট্রেন্ড?

বর্তমান সময়ে সৌন্দর্যচর্চায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ‘ন্যাচারাল লুক’- এর প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আগ্রহ থেকে। এখন আর সবাই নিখুঁত, ফিল্টার করা বা অতিরিক্ত গ্ল্যামারাস ত্বক খোঁজেন না। বরং এমন একটি লুকের চাহিদা বেড়েছে, যা দেখতে বাস্তব, স্বাভাবিক এবং সহজাত সৌন্দর্যের প্রতিফলন। কাঁচের মতো চকচকে গ্লো বা ভারী ম্যাট ফিনিশের বদলে অনেকেই এখন এমন ত্বক চান, যা সত্যিকারের ত্বকের মতোই দেখায়। আর ঠিক এই জায়গাতেই ক্লাউড স্কিন ট্রেন্ডটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো ব্যবহারিক সুবিধা। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অতিরিক্ত চকচকে মেকআপ অনেক সময় ত্বককে তেলতেলে দেখাতে পারে। এমনকি দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে মেকআপ দ্রুত গলে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিপরীতে, ক্লাউড স্কিনের আসল আকর্ষণ হলো ত্বককে হালকা ম্যাট কিন্তু পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড দেখানো। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আর্দ্র আবহাওয়ার দেশগুলোতে এই ট্রেন্ড বিশেষভাবে কার্যকর। বিশেষ করে যাদের ত্বক মিশ্র বা তৈলাক্ত, তাদের জন্য ক্লাউড স্কিন হতে পারে আদর্শ একটি বিকল্প।

গ্লাস স্কিনের জনপ্রিয়তা কি শেষ?

গ্লাস স্কিন একেবারেই হারিয়ে যায়নি। যারা ঝলমলে, ডিউই সিগনেচার গ্লো পছন্দ করেন, তাদের কাছে গ্লাস স্কিন এখনও সমান জনপ্রিয়। তবে বিউটি ট্রেন্ডে এখন বৈচিত্র্য এসেছে। গ্লাস স্কিনের পাশাপাশি জায়গা করে নিচ্ছে ক্লাউড স্কিনও। মূলত যারা একটু বেশি স্বাভাবিক, পরিমিত এবং সহজে ক্যারি করা যায় এমন একটি লুক খুঁজছেন, তাদের কাছে ক্লাউড স্কিন হয়ে উঠছে আকর্ষণীয় একটি বিকল্প।

যেভাবে পাবেন ক্লাউড স্কিন লুক

হাইড্রেটিং প্রাইমার দিয়ে শুরু: মেকআপের শুরুতেই একটি জেন্টল হাইড্রেটিং প্রাইমার ব্যবহার করুন। এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখার পাশাপাশি টেক্সচারকে মসৃণ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

সফট ও ন্যাচারাল বেস: এই লুকের মূলমন্ত্র হলো ‘কম মেকআপে বেশি সৌন্দর্য’। ভারী ফাউন্ডেশন বাদ দিয়ে বেছে নিন হালকা সিসি ক্রিম বা স্কিন টিন্ট, যা ত্বকের রঙের সঙ্গে মিশে যাবে। এরপর সামান্য কনসিলার, হালকা ব্লাশ ও সফট হাইলাইটার ব্যবহার করুন।

লুজ পাউডার দিয়ে আনুন ‘ক্লাউড’ ইফেক্ট: ক্লাউড স্কিন লুকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো লুজ সেটিং পাউডার ব্যবহার। তবে পুরো মুখে ভারীভাবে পাউডার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং টি-জোনের মতো যেসব স্থানে তেল বেশি আসে, সেখানে হালকা করে পাউডার লাগালেই যথেষ্ট। এর উদ্দেশ্য হলো ত্বককে মসৃণ ও ম্যাট রাখা, কিন্তু একইসঙ্গে স্বাভাবিক আভাও বজায় রাখা। ফলে ত্বক অতিরিক্ত চকচকে দেখাবে না, আবার একেবারে প্রাণহীন বা পাউডারি ম্যাটও লাগবে না।

   

About

Popular Links

x