Thursday, July 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্ত্রীর আয় বেশি হলে কি খালি স্বামীদেরই মানসিক চাপ বাড়ে?

 অনেক নারীই আবার অবচেতনভাবে স্বামীকে ছাড়িয়ে যাওয়া এড়াতে চান

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর,অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। নর-নারীর ভেতর সমতা একটি সমাজে কতখানি প্রয়োজন তা কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী কবিতাটির উদ্ধৃতিটি দিয়ে বোঝা সম্ভব। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নারী-পুরুষের বৈষম্য না কমে, বরং আরো বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যুগের প্রয়োজনে ৯-৫টা অফিস জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন নারীরা। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখন, যখন, একজন নারী ছাপিয়ে যায় তার পুরুষ সঙ্গীকে। আর্থিকভাবে হলে তো কথাই নেই।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী “দ্য ইকোনোমিস্ট” এর এক জরিপে উঠে এসেছে, চাকুরিজীবী তরুণ দম্পতিদের মাত্র ৩০% স্বামীদের চেয়ে বেশি আয় করেন স্ত্রীরা। কিন্তু যে সব ক্ষেত্রে স্ত্রীরা পরিবারের মোট আয়ের ৭০% বা তার বেশি অবদান রাখেন, সে সব ক্ষেত্রে স্বামীদের গুরুতর মানসিক উদ্বেগে ভোগার আশঙ্কা আড়াই গুণ বেড়ে যায়। ১৭ বছর ধরে গবেষণা সাময়িকীটির এই গবেষণায় আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, তা হলো সঙ্গীর তুলনা উচ্চ উপার্জনকারী নারীদের মধ্যেও তাদের সম্পর্কের প্রতি সন্তুষ্টি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। 

ইউনিভার্সিটি অফ কানসাসের অর্থনীতিবিদ ডক্টর মিস্টি হেগনেস জানিয়েছেন, “স্ত্রীরা পরিবারের মূল উপার্জনকারী হোন বা না হোন, ঘরের কাজের সিংহভাগ দায়িত্ব কিন্তু এখনও তাদের কাঁধেই থেকে যায়।” দ্বিগুণ চাপের ফলেই সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

২০১৫ সালের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অর্থনীতিবিদ মারিয়েন বার্ট্রান্ড জানান, বেশিরভাগ পরিবারেই স্ত্রীর আয় ঠিক স্বামীর আয়ের আটকে থাকে। 

অর্থাৎ, অনেক নারীই অবচেতনভাবে স্বামীকে ছাড়িয়ে যাওয়া এড়াতে চান।

আবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম “এইসময়” ফরাসি একটি গবেষণার বরাতে জানিয়েছে, যে পরিবারে স্ত্রীরা মোট আয়ের প্রায় ৭৫% অবদান রাখেন, তাদের বিচ্ছেদের ঝুঁকি অন্যান্য দম্পতির তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি।

তবে, আশার কথা হলো, আন্তর্জাতিক স্তরে মানুষের ধারণায় বদল আসছে। ২০২২ সালের পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ১০% নাগরিক মনে করেন যে স্ত্রীর আয় বেশি হওয়াটা সমস্যাজনক। ১৯৯৮ সালেও এই হার ছিল এক-তৃতীয়াংশের বেশি। তা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে পুরোনো লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক ভূমিকা  কাটিয়ে ওঠা এখনও অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে,  সামাজিক ইগো, পুরুষত্ব সংক্রান্ত পুরোনো ধারণা এবং অসম পারিবারিক দায়িত্বের স্ত্রীদের উপার্যন বেশি হলে মানসিক চাপ বাড়ছে স্বামীদের।

   

About

Popular Links

x