Monday, August 03, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিল গেটস সম্পর্কে যে তথ্যগুলো জানেন না আপনি!

কিশোর বিল গেটস কিন্তু একেবারেই শান্তশিষ্ট ছিলেন না। স্কুলে পড়ার সময় তার পছন্দের সব মেয়েকে এক ক্লাসে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি!

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের সিয়াটলে ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া মানুষটিকে পুরো বিশ্ব চেনে বিজনেস ম্যাগনেট, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, আবিষ্কারক, দানবীর, সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসেবে। মাইক্রোসফট’র কল্যাণে তিনি ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীও। উত্তরাধিকারী কোনো সম্পদ ছাড়াই বিল গেটস নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমে মাত্র ৩১বছর বয়সে বিলিয়ন ডলারের মালিক হন।

আসুন জেনে নেই বিল গেটস সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্যঃ

ক্লাস না করেও এ গ্রেড পেতেন তিনি!

হার্ভার্ডে যেসব ক্লাস করার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন, কোনদিনই সেসব ক্লাসে যাননি। তবু কোনো এক জাদুবলে প্রতিবারই বার্ষিক পরীক্ষায় “এ” মার্কস পেতেন।

গাড়ির নম্বরপ্লেট মনে রাখতেন! 

মাইক্রোসফট এর অফিসে কর্মীরা কখন আসছেন বা যাচ্ছেন, তা গাড়ির নম্বরপ্লেট দেখে মনে রাখতেন বিল গেটস। টেলিগ্রাফকে এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেছিলেন, “কর্মীরা কতটা কঠোর পরিশ্রম করছেন, তা যাচাই করতে আমাকে সতর্ক থাকতে হতো। আমি সবার নম্বরপ্লেট জানতাম। পার্কিংয়ে প্লেট দেখলেই বুঝতে পারতাম কে কখন আসছেন বা যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠান বড় হয়ে যাওয়ার পর অবশ্য আমি এতে একটু শিথিল হই!”

 ‘বান্ধবীময়’ ক্লাস শিডিউল!

কিশোর বিল গেটস কিন্তু একেবারেই শান্তশিষ্ট ছিলেন না। স্কুলে পড়ার সময় তার পছন্দের সব মেয়েকে এক ক্লাসে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। কিশোর বিল গেটসকে স্কুল কর্তৃপক্ষ কম্পিউটার ব্যবহার করে একটি ক্লাস শিডিউল তৈরি করে দিতে বলেছিল। এই সুযোগ কাজে লাগান তিনি। তার পছন্দের সব মেয়েকে দিয়ে নিজের ক্লাস ভরান!

হ্যাকার বিল গেটস!

বিল গেটস ও পল অ্যালেন (মাইক্রোসফটের আরেকজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা) হাইস্কুলে পড়ার সময় ধার করে কম্পিউটার চালাতেন। যেখান থেকে তারা কম্পিউটার এক্সেস করতেন সেখানে একটি কোম্পানির কিছু ফ্রি একাউন্ট ছিল। সেই কোম্পানির একটি একাউন্টিং ডকুমেন্ট হ্যাক করে বিল গেটস ও তার বন্ধু ফ্রি কম্পিউটার এক্সেসের একাউন্ট খোঁজ করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সফল হননি।

গেমপোকা!

কম্পিউটারে গেম খেলা বিল গেটসের পছন্দ। তবে, তা একসময় নেশা হয়ে গিয়েছিল। মাইনসুইপার নামের গেমটির এতই ভক্ত ছিলেন যে তার মনোযোগ ঠিক রাখতে গেমটি আনইনস্টল করতে হয়েছিল। একবার যখন এক কর্মী কম্পিউটার স্ক্রিপ্ট লিখে বিল গেটসের গেমের স্কোরকে হারিয়ে দেন তখন গেটস বলেন, “যন্ত্র যদি মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে কাজ করে, আমাদের কীভাবে মর্যাদা থাকবে?”

বিমানের কন্ট্রোল প্যানেল হাইজ্যাকার!

১৯৮০ সালের শেষ দিকে বিল গেটস ও পল অ্যালেন সান ফ্রানসিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেরি করে পৌঁছানোর কারণে ফ্লাইট মিস্‌ করেন। ইতোমধ্যেই বিমান যাত্রা শুরু করেছিল। বিল গেটস নাছোড়বান্দা। তিনি বিমানবন্দরে নিয়ন্ত্রণকক্ষে ঢুকে পড়েন ও সেখানে বিভিন্ন বাটন টিপে প্লেনটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। অ্যালেন ভেবেছিলেন গেটস বুঝি আজ পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যাবেন কিন্তু শেষপর্যন্ত এয়ালাইনের কেউ একজন বিমানটিকে ফিরিয়ে এনে তাদের জন্য যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন!

গাড়ি চালাতে গিয়ে তিনবার জরিমানা গোণা!

দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য তিনবার জরিমানা দিতে হয় বিল গেটসকে। পোর্সে ৯১১ চেপে সিয়াটলে তার নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় দু’বার জরিমানার মুখে পড়তে হয় তাকে। পোর্সে গাড়ির প্রতি অসম্ভব প্রেম ছিল গেটসের। একবার এক বন্ধুর কাছ থেকে একটি পোর্সে ৯২৮ সুপারকার চেয়ে নেন। মাইক্রোসফটের দফতরে যাওয়ার সময় বিপজ্জনক গতিতে গাড়িটি চালানোর সময় সেটি উল্টে যায়। গাড়িটি সারাতে প্রায় ১ বছর সময় লেগেছিল।

ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী

ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিল গেটস কোম্পানির সব লোক নিয়ে উড়োজাহাজের ইকোনমি ক্লাসে উঠেছেন। কোম্পানির রীতি ছিল সব কর্মীকে ইকোনমি ক্লাসে যেতে হবে। বিল গেটসও তা মেনে চলতেন। বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়েও ইকোনমি ক্লাসে যেতে গেটসের মধ্যে কোনো অস্বস্তি দেখা যেত না। সারাপথ বই পড়তে পড়তে যেতেন গেটস। পরে অবশ্য তিনি নিজস্ব জেট বিমান কিনেছেন।

নিজ হাতে থালা-বাসন ধোয়া!

প্রতিরাতে নিজ হাতে থালা-বাসন ধুয়ে রাখেন বিল গেটস! ২০১৪ সালে রেডিটে এক এএমএ সেশনে বিল গেটস বলেন, “প্রতিরাতে আমি ডিশগুলি ধুয়ে থাকি, আমি এটা নিজের মত করে করতে পছন্দ করি।”

   

About

Popular Links

x