রমজানে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করেছেন দেশবাসী। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন অজস্র মানুষ। চিরচেনা ব্যস্ত ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। যানজটহীন শহরে তাই ঈদের ছুটিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরা সম্ভব।
নানান ব্যস্ততায় যারা রাজধানীতেই ঈদের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন তারা পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার মধ্যেই দর্শনীয় ও ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি জায়গা থেকে। ঢাকা ট্রিবিউনের পাঠকদের ঈদের ছুটিতে আরও আনন্দময় করতে তাই ঢাকার দর্শনীয় ১০টি জায়গার কথা তুলে ধরা হলো।
আহসান মঞ্জিল
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকার নবাবদের আবাসিক ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত স্থান “আহসান মঞ্জিল”। পুরান ঢাকার অলিগলির মারপ্যাঁচে না পরে ওয়াইজ ঘাটের সামনে এসে বুলবুল ললিতকলা অ্যাকাডেমির ঠিক সোজা তাকালেই চোখে পড়বে ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নবাবদের আভিজাত্যের ছোঁয়া উপভোগ করার মতো মজা আর হবে না।
আহসান মঞ্জিল সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউনলালবাগ কেল্লা
মুঘল আমলে নির্মিত একটি অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত লালবাগ কেল্লা। প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে লাল ইটের দর্শনীয় কেল্লাটি। সেই সঙ্গে দেখে আসতে পারেন কেল্লার পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক লালবাগ শাহী মসজিদও।
লালবাগ কেল্লা সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউনবলধা গার্ডেন
রাজধানীর ওয়ারীতে অবস্থিত বলধা গার্ডেনের ঢুকতেই চোখে পড়বে মন জুড়ানো প্রায় দেড় হাজার প্রজাতির গাছ। এখানে রয়েছে মনোরম একটি পুকুর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বাগানটিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছাড়াও বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য একটি গেস্ট হাউজও রয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবন
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনটি শুধুমাত্র বাংলাদেশই নয় বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থাপত্যশৈলীর বাস্তব উদাহরণ। মার্কিন স্থপতি লুই কানের নকশায় নির্মিত অত্যাধুনিক এই ভবনটি তার ব্যতিক্রমী আকার ও নকশার জন্য জনপ্রিয়। ভবনের প্রবেশাধিকার সাধারণ মানুষের না থাকলেও আশেপাশের পরিবেশ, কৃত্রিম লেক ও রাস্তার ওপর অবস্থিত অস্থায়ী খাবারের দোকানগুলো বিকেলের পর জমজমাট হয়ে ওঠে।
জাতীয় সংসদ ভবন মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউনশিশু মেলা
ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত “ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড” বা “শিশু মেলা” রাজধানীর একটি শীর্ষস্থানীয় বিনোদন পার্ক। এটি ১৯৮৫ সালে “শিশু মেলা” নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি শিশুদের এ বিনোদন কেন্দ্রটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে “ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড”। এখানে পরিবারের ক্ষুদের সদস্যদের মনোরঞ্জনের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় সব রাইড। আবার বড়দের ফিরিয়ে দিতে পারে ফেলে আসা ছেলেবেলায়। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন শিশু পার্ক থেকে।
ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড/ ফেসবুককার্জন
রাজধানীর শাহবাগে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কার্জন হল অবস্থিত। প্রায় ১১৫ বছরের পুরনো ব্রিটিশ স্থাপত্যের নজির ও ঐতিহাসিক ভবনটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্বিতল এই ভবনটি ভারতবর্ষের তৎকালীন ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জনের নামানুসারে নির্মিত।
কার্জন হল সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউনলাল রঙা ইট দিয়ে কারুকার্যময় ভবনের সামনে রয়েছে সুন্দর ফুলের বাগান। ভবনের পেছনে রয়েছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ ও বিশাল একটি পুকুর। এছাড়া, কার্জন হলের উল্টো দিকের রাস্তার অন্য পাশে রয়েছে শিশু অ্যাকাডেমি ও দোয়েল চত্বর। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে কার্জন হল অন্যতম পছন্দের ভ্রমণ “স্পট”।
হাতিরঝিল
এক পাশে সবুজ অন্যপাশে টলটলে জলের ওপর দিয়ে চলেছে যাত্রীবাহী ওয়াটার বাস। ওয়াটার বাসে চড়ে ঘোরা যাবে পুরো হাতিরঝিল। মগবাজার থেকে রামপুরা এবং গুলশান পর্যন্ত এই ওয়াটার বাসে ভ্রমণ করা যাবে নির্ধারিত ভাড়ায়। হাতিরঝিলের প্রকৃত রূপ উপভোগ করতে চাইলে চলে যেতে পারেন রাতের বেলা। আলো ঝলমলে ব্রিজ ও ঠাণ্ডা হাওয়া মন-প্রাণ জুড়িয়ে দেবে।
হাতিরঝিল সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউনরমনা পার্ক
রাজধানীর শাহবাগ ও বেইলি রোডের মিন্টু রোড এলাকা নিয়ে রমনা পার্কের অবস্থান। পার্কে রয়েছে নানান প্রজাতির গাছ এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে। পরিবার নিয়ে পিকনিক করতে চাইলে রমনা পার্ক হতে পারে আদর্শ স্থান।
জাতীয় চিড়িয়াখানা
প্রাণীপ্রেমীরা ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন রাজধানী মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বনের রাজা সিংহ থেকে শুরু করে চেনা-অচেনা বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর দেখা মিলবে। প্রতিবছর জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের ভিড় জমে। তাই ঈদের ছুটিতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন চিড়িয়াখানায়।
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা সংগৃহীতজাতীয় জাদুঘর
রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর। জাদুঘরটি সুসংগঠিত এবং নৃতাত্ত্বিক ও আলংকারিক দিক থেকেও অনন্য। শিল্প বিভাগ, ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্প বিভাগ, প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ এবং সমসাময়িক কিংবা বিশ্ব সভ্যতা বিভাগের মতো বিভিন্ন বিভাগে সাজানো বিশাল এই ভবনটির প্রতিটি কক্ষ। যা একদিনে দেখে চোখ জুড়াবে না। জাদুঘরে রয়েছে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার।
জাতীয় জাদুঘর মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউনদেশ-বিদেশের জানা-অজানাকে জানতে ও শিখতে, জ্ঞান অর্জন ও ভ্রমণকে একইসঙ্গে উপভোগ্য করতে চাইলে ঈদের ছুটিতে আপনার ভ্রমণ তালিকার এক নম্বরে রাখতে পারেন জাতীয় জাদুঘরের নাম।



