বাইরে ভয়ঙ্কর রূপ, ভেতরটা মিষ্টি। এক সুইডিশ শিল্পী জিঞ্জারব্রেড দিয়ে তৈরি করেছেন সিনেমার ভয়ঙ্কর সব চরিত্রগুলো। তার এ শিল্পকর্ম রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। এই শিল্পকর্ম সাজিয়ে রাখা বা প্রদর্শনীর জন্য নয়, সেগুলো খাওয়ার উপযোগী। তাই মানুষের মাঝে এদের কদরও বেশি।
শিল্পী ক্যারোলিন এরিকসনের বৈঠকখানা হরর ও কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্রের ‘‘মনস্টার'' বা দৈত্যে ভরা। তবে ভয়ের কিছু নেই, সেগুলো সব জিঞ্জারব্রেডে তৈরি। ক্যারোলিন বলেন, “ফ্রেম জিঞ্জারব্রেডের ওজন ধরে রাখতে পারবে কি-না, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। না পারলে ভেঙে মেঝেতে পড়বে। তখন আমার সব কাজ হারিয়ে যাবে। তবে আশা করি, এমনটা ঘটবে না।”
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অসলো-ভিত্তিক এই সুইডিশ শিল্পী মার্কিন অতিপ্রাকৃত ‘‘স্ট্রেঞ্জার থিংস'' সিরিজের মনস্টার ‘‘ডেমোগর্গন'' নিয়ে কাজ করছেন। জিঞ্জারবেডের উচ্চতা এক মিটার বিশ সেন্টিমিটার, ওজন প্রায় ১৫ কিলোগ্রাম।
স্টার ওয়ার্সের ডার্থ ভেডার, এলিয়েন চলচ্চিত্রের জেনোমর্ফ, গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সির গ্রুট এবং স্পাইডারম্যানের চরিত্র ভিনোমের মতো জিঞ্জারব্রেডের সৃষ্টিও শোভা পাচ্ছে। এমন আজব শখ সম্পর্কে কারোলিন বলেন, “আমি সিনেমা ও সায়েন্স ফিকশন অনুরাগী। পপ কালচারের সব কিছুই আমার পছন্দ। সে কারণেই হয়তো এমন সব চরিত্র বেছে নিই। তাছাড়া ভয়ঙ্কর ও রহস্যজনক কোনো কিছু তৈরির একটা আলাদা রোমাঞ্চ রয়েছে। আমার সত্যি বিষয়টা পছন্দের।”
প্রতিটি প্রকল্পই এক স্কেচের মাধ্যমে শুরু হয়। নিজের কাজের মূলমন্ত্র ব্যাখ্যা করে ক্যারোলিন এরিকসন বলেন, “প্রক্রিয়ার শুরুতে কোনদিকে সবসময় মনোযোগ দিতে হয়, সেটা আমি শিখেছি। কারণ শুরুতেই ভুল করলে পরেও কিছু না কিছু গোলমাল হবে। তাই আগেভাগেই সম্ভাব্য সমস্যা কল্পনা করে ঘটার আগেই সেই সমস্যা দূর করার চেষ্টা করি।”
শিল্পকর্মগুলোকে স্থিতিশীল করতে তিনি তারের সাহায্যে কাঠামো তৈরি করে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে জড়িয়ে দেন। জাপানের ‘‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে'' নামের অ্যানিমে চলচ্চিত্রের ড্রাগন হাকু তার অন্যতম চলমান প্রকল্প। শিল্পকর্মের বাইরের অংশ সবসময় শুদ্ধ জিঞ্জারব্রেডের তাল দিয়ে তৈরি। এগুলো কি শিল্প, নাকি বড়সড় এক বিস্কুট?
ক্যারোলিন বলেন, “আমার মনে কখনো এমন ভাস্কর্য খাওয়ার ইচ্ছে জাগেনি। কুকি না, আর্ট হিসেবে আমি এগুলো সৃষ্টি করি, কেউ সেই ভাস্কর্য খেলে আমার কষ্ট হবে বলে মনে হয়।”
এর আগে তিনি জিঞ্জারব্রেড দিয়ে বাড়িঘর বানিয়েছেন। তখনই তার মাথায় একই উপকরণ দিয়ে এসব চরিত্র সৃষ্টির বুদ্ধি আসে। ক্যারোলিন বলেন, “এটি জিঞ্জারব্রেড তৈরির সাধারণ প্রণালী। আমি একেবারে শুরু থেকে সেটা তৈরি করি। তাই এগুলো খাওয়ার উপযোগী। স্বাদ আসলেই খুব ভালো।”
ক্যারোলিন এরিকসন এখন এমন এক জিঞ্জারব্রেডের তাল তৈরির চেষ্টা করছেন যাতে পানি যোগ করলে কাদামাটির মতো সহজে পছন্দমতো আকার দেওয়া যায়।
তিনি ধীরে ধীরে ফ্রেমের ওপর সেই তাল বসিয়ে একাধিকবার শুকাতে দেন। সেই গঠন অক্ষত থাকে। শেষে তিনি ভোজ্য রং যোগ করে ভাস্কর্যটিকে আরও জীবন্ত করে তোলেন। তবে সেই শিল্পকর্ম মোটেই স্থায়ী হয় না।
ক্যারোলিন এরিকসন বলেন, “এমন সৃষ্টি অবশ্যই চিরকালের জন্য নয়। খাদ্য বলে কোনো না কোনো সময় ভেঙে পড়বেই। মনে হয় কয়েক মাস টিকবে। ভেঙে পড়ার আগে মন একটু খারাপ হলেও অন্যদিকে শিল্পকর্ম স্থায়ী না হওয়ারও এক ধরনের রোমাঞ্চ আছে। তখন সেটির আরও কদর করা হয়।”
বাইরে ভয়ংকর হলেও ভেতরটা মিষ্টি। সে কারণেও ক্যারোলিন এরিকসনের শিল্পকর্ম দর্শকদের আরও মুগ্ধ করে।



