Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাকা পুড়ে গেলে যা করবেন

টাকা পুড়ে গেলে কী করণীয়, সেটা অনেকেরই জানা নেই

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:০৪ পিএম

টাকা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। যেকোনো জিনিস কিনতে গেলেই প্রয়োজন হয় টাকা। আজকাল ই-ক্যাশের লেনদেন শুরু হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রয়েছে কাগজের টাকার নোটের প্রচলন। 

নিত্য ব্যবহার্য এই কাগজের নোট আবার ছেঁড়া কিংবা পোড়া হলে তা চালানো কঠিন। কিন্ত ছোট বড় যেকোনো ধরনের আগুনেই পুড়তে পারে টাকা। তবে এসব টাকা কিন্তু পুরোপুরি অচল না। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে ছেঁড়া-ফাটা নোট পরিবর্তনের সুযোগ আছে। কোনো ব্যক্তি এ ধরনের নোট নিয়ে গেলে সেটির ৫১-৭৫% অবশিষ্ট থাকলে ৫০% টাকার মালিক ফিরে পান। অন্যদিকে, ৭৬-৯০% অবশিষ্ট থাকলে ফিরে পান ৭৫%। ৯০% এর বেশি অবশিষ্ট থাকলে মালিক পুরো টাকাই ফেরত পেয়ে থাকেন টাকার মালিক। কিন্তু টাকা পুড়ে গেলে কী করণীয়, সেটা অনেকেরই জানা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, পোড়া নোটের ক্ষেত্রে টাকার মালিক ব্যাংকমুখী হলে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা ফেরত পাবেন না। এর জন্য রয়েছে কিছু প্রক্রিয়া টাকা পুড়লে সেই পোড়া টাকার মূল্য উদ্ধারের জন্য যে কাজগুলোি করতে হবে, তা হলো-

-ক্ষতিগ্রস্ত টাকার তথ্য-প্রমাণসহ বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে হবে।

-পোড়ার কারণ ও পরিমাণসহ থানায় জিডি করে তার মূল কপি নিতে হবে।

-পোড়ার কারণ ও পরিমাণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যায়ন পত্র নিতে হবে। 

-জাতীয় পরিচয় পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ও মূল কপি লাগবে।

-পেপার ক্লিপিং লাগবে।

টাকা পুড়লে প্রথমেই সেই টাকা সংগ্রহ করে যদি দেখেন নোটের ৫১% এর কম অবশিষ্ট আছে, তাহলে সেই নোট বাতিল। যদি ৫১% এর বেশি ঠিক থাকে, তাহলে সেই নোটগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছু অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিও অফিসে গেলে আপনাকে একটি তারিখ দেবে। যেদিন আপনাকে আপনার পোড়া টাকা ও উপরের উল্লেখিত নথিপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। সাধারণত সপ্তাহের সোমবার দিনটিতে পোড়া টাকা চেক করা হয় বলে ন্যুনতম ছয় থেকে ১২ মাস পরের কোনো সোমবারে তারিখ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তারিখ পাওয়ার পর পোড়া টাকা উদ্ধারে আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তার মূল কপি সংগ্রহ করা। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে গিয়ে টাকা পুড়ে যাওয়ার কারণ ও পরিমাণসহ উল্লেখ করে তার কাছ থেকে একটি প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহ করুন। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি করুন। সংবাদ পত্রের ক্লিপিং যদি থাকে, সেটিও সংগ্রহ করুন। এবার একটি আবেদন পত্র লিখে সব নথিপত্র একটি ফাইলে একত্রিত করে অপেক্ষায় থাকুন আপনার তারিখ আসা পর্যন্ত।

পোড়া টাকা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিও অফিসে যাবার আগে আপনি পুড়ে যাওয়া টাকার পোড়া অংশটুকু বা ছাই টুকু এবং আগুনের তাপে কালো হয়ে যাওয়া অংশটুকু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ফেলে দিন। এতে আপনার কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষায় বসে থাকা ঝামেলা পোহাতে হবে না।

নির্দিষ্ট তারিখে সকাল ১১টার মধ্যে পোড়া টাকা ও কাগজ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিও অফিসে পৌঁছানোর পর দুজন লোক আপনার টাকা নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পোড়া অংশ ছিঁড়তে আসবেন। পোড়া অংশ ছেঁড়ার কাজটা আপনি যদি বাড়ি থেকে করে নিয়ে যান, তাহলে এ বিরক্তিকর সময়টুকু বেঁচে যাবে।

এবার তারা স্ক্যানার মেশিনে একটি একটি করে নোট ফেলে স্ক্যানিং করে রিডিং নিয়ে সেই প্রিন্টেড রিডিংয়ের কাগজ প্রতিটি নোটের সঙ্গে স্টেপল করে সেঁটে দিতে শুরু করবেন। এক এক করে সবগুলো নোটে এই কাজ করা হবে। মূলত, পোড়া নোটটির কত অংশ ভালো আছে সেটাই স্ক্যানিং মেশিনে দেখা হয় । ৫১% ভালো না থাকলে সেই নোটটি বাতিল হয়ে যাবে।

এরপর কোনো নোট জাল কি-না, সেটি দেখার জন্য ৫১% ভালো থাকা টিকে যাওয়া নোটগুলোকে জাল নোট চেকিং মেশিনের নিচে দেওয়া হবে। কোনো জাল নোট থাকলে সেটিও বাদ হয়ে যাবে এখানে।

এবার অবশিষ্ট টাকার নোটগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে। প্রথম ভাগে থাকবে ৫১%-৭৫% অবশিষ্ট থাকা নোটগুলো। এ নোটগুলোর জন্য ৫০% কেটে রেখে আপনাকে ৫০% দেওয়া হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকার নোটের ক্ষেত্রে আপনাকে দেওয়া হবে ৫০ টাকা।

দ্বিতীয় ভাগে থাকবে ৭৬%-৯০% টিকে থাকা নোটগুলো। এই নোটগুলোর জন্য ২৫% কেটে রেখে ৭৫% টাকা আপনাকে ফেরত দেওয়া হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকার নোট থাকলে আপনাকে দেওয়া হবে ৭৫০ টাকা।

তৃতীয় ভাগে থাকবে ৯১% থেকে ৯৯% টিকে থাকা নোটগুলো। এই নোটগুলোর জন্য আপনার কোনো টাকাই কাটা যাবে না। বরং আপনি সম্পূর্ণ টাকাই ফেরত পাবেন। অর্থাৎ, ১০০ টাকার নোট থাকলে আপনাকে ফেরত দেওয়া হবে ১০০ টাকাই।

এবার আপনার টাকাগুলোর সম্পূর্ণ বিবরণ কয়েকটি আলাদা আলাদা ফরমে লেখা হবে। সবগুলোই অফিসিয়াল কাজ বলো আপনাকে শুধুমাত্র দুটি পাতায় আপনার নাম ঠিকানা ও স্বাক্ষর দিতে হবে।

এরপর ক্যাশ কাউন্টার ডিপার্টমেন্ট থেকে একজন ব্যক্তি এসে আপনার তিন ভাগ করা টিকে যাওয়া টাকাগুলো গুনে দেখবেন। আগের দুই ব্যক্তির গোনা হিসাবের সঙ্গে নিজের হিসাব মেলাবেন। হিসাব মিলে গেলে একটি প্যাকেটে টাকাগুলো রেখে প্যাকেটের ওপরে আগের দুই ব্যক্তির লেখা হিসাবের নিচে নিজের হিসাব বুঝে পেয়েছেন সেটি লিখবেন।

এবার আপনার পোড়া টাকা ও কাগজ নিয়ে তারা চলে যাবে সিও'র কক্ষে। সেখানে আবার সব কিছু চেক করবেন এবং সব কিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে বুঝে পেয়ে তিনি টাকার প্যাকেটটি সিলগালা করে দেবেন।

এবার আপনার টাকাগুলোর সম্পূর্ণ বিবরণ কয়েকটি আলাদা আলাদা ফরমে লেখা হবে। সবগুলোই অফিসিয়াল কাজ বলে আপনাকে শুধুমাত্র দুটি পাতায় আপনার নাম ঠিকানা ও সই দিতে হবে।

প্রথম দুজন ব্যক্তির একজন  এবার আপনার টাকার সিল করা প্যাকেট ও হাতে লিখিত সেই ফরমের কাগজগুলো নিয়ে আপনাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ৩০ তলা ভবনের নিচতলার কাউন্টারের সামনে চলে আসবেন। সেখানে একজন আপনার প্যাকেটটি বুঝে নিয়ে ফরমের মধ্যে নিজের হিসাব লিখে নিয়ে সেই অংশটি আপনাকে ছিঁড়ে দিয়ে দেবে। এখানে  আপনি মোট কত টাকা ফেরত পাচ্ছেন, সেটি লেখা থাকবে।

পরদিন দুপুর ১২টার দিকে আবার আপনি এ ৩০ তলা দালানের ৩য় তলার পোড়া টাকা দাবি আদায় অংশে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে আপনাকে গতকালের দেওয়া হিসাবের অংশটি দেখাতে হবে। সেটি দেখে আপনার দাবি পরিশোধের অনুমতি দেওয়া হলে সেটি নিয়ে নিচের কাউন্টারে গেলে চকচকে নতুন নোটে আপনার হিসাব অনুযায়ী দাবি করা টাকা পরিশোধ করা হবে।

About

Popular Links