Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মালদ্বীপের বিকল্প এশিয়ার কিছু দর্শনীয় স্থান

এশিয়াজুড়ে গালফ বা উপসাগরীয় শহরগুলোর দেখা মিললেও মালে বা হুলহুমালের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সত্যি দুষ্কর। কিন্তু এই দুষ্প্রাপ্যতার ছোঁয়া পেতে পকেটটাও যারপরনাই ভারি হওয়া জরুরি

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৬ এএম

শুধু নবদম্পতিদেরই নয়; পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এমনকি সলো ট্রাভেলারদেরও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে মালদ্বীপ। আদিম প্রবাল প্রাচীরের সঙ্গে সখ্য গড়তে কাঁচ রঙের পানিকে দৃষ্টি সীমানায় বন্দি করাটাই যথেষ্ট নয়। পরম মমতায় ডুব দিয়ে জলজ অধিবাসীদের সঙ্গে চড়ুই ভাতিতে না মজলে, পুরো আনন্দটাই বাকি থেকে যাবে এই দ্বীপরাষ্ট্র ভ্রমণের।

এশিয়াজুড়ে গালফ বা উপসাগরীয় শহরগুলোর দেখা মিললেও মালে বা হুলহুমালের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সত্যি দুষ্কর। কিন্তু এই দুষ্প্রাপ্যতার ছোঁয়া পেতে পকেটটাও যারপরনাই ভারি হওয়া জরুরি। আর একটু খরচ বাঁচিয়ে যারা মালদ্বীপের বিকল্প খুঁজছেন আজকের নিবন্ধটি তাদের জন্য। চলুন, এশিয়ার অন্য কিছু উপকূলবর্তী ট্যুরিস্ট স্পটে মালদ্বীপকে খুঁজে দেখা যাক।

ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ থাইল্যান্ডের বৃহৎ দ্বীপ ফুকেট এবং থাইল্যান্ডের মালাক্কা উপকূলের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপপুঞ্জ/সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ

আন্দামান সাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি শ্বেত-শুভ্র পাথর ও বালির এক মনোমুগ্ধকর সংমিশ্রণ। ছয়টি স্বতন্ত্র দ্বীপের মধ্যে ফি ফি ডন মাঙ্কি সৈকত ও মায়া বে-এর জন্য ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। এখানকার কাছাকাছি বিমানবন্দরটি হল ফিৎসানুলক। আকাশপথে বাংলাদেশ থেকে এখানে আসার ভাড়া শুরু হয় জনপ্রতি ২৩০ মার্কিন ডলার বা ২৫,২৬৪.৬৫ টাকা (১ মার্কিন ডলার= ১০৯.৮৫ বাংলাদেশি টাকা) থেকে।

খাবারের জন্য প্রতিদিন আনুমানিক ৪১৭ থাই বাত বা ১,২৮৯.৪৫ টাকা খরচ হয়। স্থানীয় পরিবহন খরচ দৈনিক ২৫৩ থাই বাত বা ৭৮২.৩৩ টাকা। কোহ ফি ফিতে দম্পতিদের জন্য হোটেল খরচ গড়পড়তায় ২,৯৫৬ থাই বাত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯,১৪০.৫৮ টাকার সমান।

থাইল্যান্ডের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ন্যূনতম ছয় মাস মেয়াদী ও কমপক্ষে দুটি খালি পৃষ্ঠা সম্বলিত পাসপোর্ট দিয়ে আবেদন করতে হবে।

কোহ লিপে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ/সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের কোহ লিপে

আন্দামান সাগরে বুকে আরও একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্য কোহ লিপে, যেটি রোমাঞ্চপ্রেমিদের হাতছানি দিয়ে ডাকে এর পাহাড়গুলো আরোহণের জন্য। দ্বীপের অভিজাত খোলা-জায়গার রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো প্রতিদিন-ই দ্বীপকে লোকারণ্য করে রাখে।

দ্বীপের সবচেয়ে কাছাকাছি এয়ারপোর্ট কোহ সামুই। বাংলাদেশ থেকে এখানে আসার প্লেন ভাড়া জনপ্রতি ন্যূনতম ৩০৪ মার্কিন ডলার বা ৩৩,৩৯৩ টাকা । দৈনিক খরচের মধ্যে সাধারণত খাবারের জন্য ৯৬৪ থাই বাত বা ২,৯৮০ টাকা এবং দ্বীপ শহরের ভেতরে যাতায়াত বাবদ ৬৫৭ থাই বাত বা ২,০৩১ টাকা।

কোহ লিপেতে দম্পতিদের জন্য হোটেলে খরচ প্রায় ৩,২১৫ থাই বাত বা ৯,৯৪১ টাকা।

আন্দামান সাগরে অবস্থিত রেয়লে উপদ্বীপ/সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের রেয়লে

একটি মনোরম অর্ধচন্দ্রাকার উপকূলরেখা সম্বলিত রেয়লে উপদ্বীপের অবস্থান ক্রাবি টাউন এবং আও নাং-এর মাঝখানে। এর বিশেষত্ব হল পাহাড়ের সুউচ্চ ঢাল, ঘন ম্যানগ্রোভ বন, আকর্ষণীয় চুনাপাথরের কার্স্ট, এবং রহস্যময় গুহা। তাই পাহাড় আরোহীদের জন্য এটি স্বর্গতুল্য।

ঢাকা থেকে রেয়লে-এর নিকটতম ক্রাবি বিমানবন্দর পর্যন্ত বিমান টিকেট মূল্য ২৪০ মার্কিন ডলার বা  ২৬,৩৬৩ টাকা থেকে শুরু হয়। গড় খরচের মধ্যে প্রায় ৭৯০ থাই বাত বা ২,৪৪২ টাকা নির্ধারিত দৈনিক খাবারের জন্য। আর ৯২৯ থাই বাত বা ২,৮৭২ টাকা গুনতে হবে অভ্যন্তরীণ পরিবহনের জন্য।

রেয়লে-এর হোটেলে দম্পতিদের থাকার খরচ সাধারণত ৪,৬২৪ থাই বাত বা ১৪,২৯৮ টাকা।

পারহেনশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মালয়েশিয়া/সংগৃহীত

পারহেনশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ মূলত প্রবাল-ঘাঁটিযুক্ত কতগুলো দ্বীপের একটি ক্লাস্টার। এখানকার পুরনো প্রবাল প্রাচীর এবং হাঙ্গর ও কচ্ছপ দর্শন জলজ রাজ্য ভ্রমণের জন্য ডুব সাঁতারুদের হাতছানি দিয়ে ডাকে।

এখানে আসার জন্য উপদ্বীপের নিকটতম বিমানবন্দর সুলতান ইসমাইল পেট্রা। বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ভ্রমণ খরচ সর্বনিম্ন জন প্রতি ৩৬২ মার্কিন ডলার বা ৩৯ হাজার ৭৬৪ দশমিক ৩৬ টাকা।

নিয়মিত বাজেটে সাধারণত খাবার বাবদ গড় খরচ ৩৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ৭৬৬ দশমিক ৪৫ টাকা (১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত = ২৩ দশমিক ২৩ বাংলাদেশি টাকা)। আর স্থানীয় পরিবহনগুলোতে গড়পড়তায় খরচ হতে পারে দিন প্রতি ৮১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ১ হাজার ৮৮১ দশমিক ২৯ টাকা।

পুলাউ পারহেন্টিয়ান বেসারে নব দম্পতিদের প্যাকেজগুলো সাধারণত শুরু হয় ১৭৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা  ৪ হাজার ০১৮ দশমিক ০৬ টাকা থেকে।

মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য বাংলাদেশী নাগরিকদের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ এবং কমপক্ষে ২টি ফাঁকা পৃষ্ঠা সহ একটি বৈধ পাসপোর্ট লাগবে।

পুলাউ ল্যাংকাউই, মালয়েশিয়া/সংগৃহীত

পুলাউ ল্যাংকাউই, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের পুলাউ ল্যাংকাউইয়ের উপকূলরেখাটি ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১২ কিলোমিটার প্রশস্ত। দ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জোয়ারা টার্টল প্রজেক্ট, যেটি মূলত সামুদ্রিক কচ্ছপদের সংরক্ষণের জন্য একটি ইনকিউবেটর।

ঢাকা থেকে ল্যাংকাউই বিমানবন্দর পর্যন্ত খরচ মাথাপিছু কমপক্ষে ৩২২ মার্কিন ডলার বা ৩৫,৩৭০ টাকা থেকে শুরু হয়। পুলাউ ল্যাংকাউই ভ্রমণে প্রতিদিনের গড় খরচের মধ্যে খাবারের জন্য রাখতে হয় ২৮১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ৬,৫২৬ টাকা। দ্বীপের ভেতরে স্থানীয় পরিবহন ব্যবহারের জন্য রাখতে হয় গড়ে ১০৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ২,৪৬১ টাকা করে।

পুলাউ ল্যাংকাউইর হোটেলগুলোতে দুইজনের জন্য থাকার ভাড়া সাধারণত ৯৬৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা ২২,৩৬৬ টাকা করে।

এল নিডো, ফিলিপাইন/সংগৃহীত

এল নিডো, ফিলিপাইন

ফিলিপাইনের পালাওয়ান দ্বীপের উত্তর প্রান্তে এই উপকূলীয় শহরটি সমগ্র এশিয়ার মধ্যে সেরা দর্শনীয় জায়গা। এল নিডো এর নিখুঁত বাস্তুসংস্থান, প্রাচীন চুনাপাথরের ক্লিফ, বিপন্ন সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং ১০০ টিরও বেশি বিদেশি পাখিদের আবাসস্থলের জন্য বিখ্যাত।

ঢাকা থেকে এল নিডো বিমানবন্দর যাতায়াতের সর্বনিম্ন ভাড়া ৬২৪ মার্কিন ডলার বা ৬৮,৫৪৪ টাকা। পর্যটকদের প্রতিদিনের খরচের তালিকায় স্থানীয় পরিবহনের জন্য ১,০৬৩ ফিলিপাইন পেসো বা ২,০৯৪ টাকা (১ ফিলিপাইন পেসো= ১.৯৭ বাংলাদেশি টাকা) যুক্ত করতে হয়। আর খাবার বাবদ রাখতে হয় ৬৬১ ফিলিপাইন পেসো বা ১,৩০২ টাকা।

দম্পতিদের রাত্রিযাপনের জন্য সাধারণত ১,৫৭৮ ফিলিপাইন পেসো বা ৩,১০৯ টাকা খরচের হিসেব রাখতে হয়। ন্যূনতম দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠাসহ কমপক্ষে ছয় মাসের মেয়াদ সম্পন্ন পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিরা ফিলিপাইনে ট্যুরিস্ট ভিসায় আবেদন করতে পারবেন।

বোরাকে, ফিলিপাইন/সংগৃহীত

বোরাকে, ফিলিপাইন

মধ্য ফিলিপাইনের এই ছোট দ্বীপটি রাতের প্রাণবন্ত কোলাহলের জন্য বিখ্যাত। নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতে মেলে উইন্ডসার্ফিং, কাইটসার্ফিং এবং কায়াকিংয়ের সুযোগ।

বাংলাদেশ থেকে এখানকার নিকটতম বিমানবন্দর গোডোফ্রেডো পি. রামোস পর্যন্ত ভ্রমণ ভাড়া সর্বনিম্ন মাথাপিছু ৩৮২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪১,৯৬১ টাকা। খাবারের জন্য ৮০৭ ফিলিপাইন পেসো বা ১,৫৯০ টাকা বাজেট রাখতে হয় ভ্রমণকারীদের। আর দ্বীপের ভেতরে যাতায়াত বাবদ ১,৫৭২ ফিলিপাইন পেসো বা ৩,০৯৭ টাকা।

২,৬০৪ ফিলিপাইন পেসো বা ৫,১৩০ টাকায় দুইজন রাত্রিযাপন করতে পারেন।

গিলি দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া/সংগৃহীত

গিলি দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ছোট ছোট তিনটি দ্বীপ লম্বকের উত্তর-পশ্চিম তীরে একত্রিত হয়ে নাম নিয়েছে গিলি দ্বীপমালা। ছাড়াও দর্শনার্থীরা স্নরকেলিং, সাঁতার কাটা এবং সূর্যস্নানে অংশ নিতে ছুটে আসেন এই গিলি ট্রাওয়ানগান, গিলি মেনো এবং গিলি এয়ারে।

আকাশপথে ঢাকা-টু-লম্বক যাত্রার জন্য সবচেয়ে কম রেট মাথাপিছু ৩৩৪ মার্কিন ডলার বা ৩৬,৬৮৮ টাকা। গিলি ট্রাওয়ানগানে একজন পর্যটকের সাধারণত প্রায় ১,৭২,০৪৩ ইন্দোনেশীয় রুপিয়া বা ১২,১৪৮ টাকা (১ ইন্দোনেশীয় রুপিয়া= ০.০০৭ বাংলাদেশি টাকা) খরচ হয় এক সপ্তাহ ভ্রমণের জন্য।

আবাসনের জন্য গুনতে হয় জনপ্রতি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫৫ ইন্দোনেশীয় রুপিয়া বা ১,০৩৪ টাকা। সারাদিনে প্রায় ৪৯,৯৯৩ ইন্দোনেশীয় রুপিয়া বা ৩৫২.২৭ টাকার মধ্যে একজনের খাবার হয়ে যায়।

ইন্দোনেশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো- মূল পাসপোর্টটিতে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকে ন্যূনতম আরও ছয় মাসের মেয়াদ থাকতে হবে। আবেদনকারীদের সশরীরে দূতাবাসের কনস্যুলার সার্ভিস কাউন্টারে যেয়ে তাদের ভিসার আবেদন জমা দিতে হবে। ইন্দোনেশিয়ার ভিসার জন্য এখনও করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া আছে কি-না তার প্রমাণ দেখাতে হয়।

সিহানুকভিল, কম্বোডিয়া/সংগৃহীত

সিহানুকভিল, কম্বোডিয়া

থাইল্যান্ডের উপসাগরে অবস্থিত এই সমুদ্র তীরবর্তী শহরটি প্রিয়াহ সিহানুক প্রদেশের রাজধানী। কম্বোডিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে উঁচু উপদ্বীপের প্রান্তের এই শহরটির পূর্বে রেম জাতীয় উদ্যানের চারপাশে উপকূলীয় জলাভূমি দ্বারা ঘেরা।

মাথাপিছু সর্বনিম্ন ৫১০ মার্কিন ডলার বা ৫৬,০২১ টাকা বিমান ভাড়ায় ঢাকা থেকে সিহানুকভিলে পৌছা যায়। সিহানুকভিল ভ্রমণে সাধারণত খাবারের বাজেট থাকে গড়ে ৭৩,৯০৭ কম্বোডিয়ান রিয়েল বা ১,৯৮৪ টাকা (১ কম্বোডিয়ান রিয়েল= ০.০২৭ বাংলাদেশি টাকা)। আর শহরের আভ্যন্তরীণ যাতায়াতের জন্য রাখতে হয় প্রায় ৫৫,১৩২ কম্বোডিয়ান রিয়েল বা ১,৪৮০ টাকা।

সিহানুকভিলে দুইজনের থাকার খরচ হতে পারে ১,৮৩,৬০০ কম্বোডিয়ান রিয়েল বা ৪,৯২৯ টাকা।

কম্বোডিয়ান ভিসার জন্য এর দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, কারণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন। আবেদনের জন্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ছয় মাসের মেয়াদের বেশি হলে ভালো। সেই সঙ্গে পাসপোর্ট বইয়ে কমপক্ষে দুইটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকা জরুরি।

ফু কুওক, ভিয়েতনাম/সংগৃহীত

ফু কুওক, ভিয়েতনাম

১৫০ কিলোমিটার উপকূলরেখা সম্বলিত ভিয়েতনামের এই বৃহত্তম দ্বীপটির আকৃতি এক বিন্দু অশ্রু ফোটার মতো। স্নোরকেলিং এবং স্কুবা ডাইভিং থেকে শুরু করে স্কুইড ফিশিং, উইন্ড সেলিং এবং জেট স্কিইং-এর বিরাট কার্নিভালের নাম ফু কুওক।

২৭৯ মার্কিন ডলার বা ৩০,৬৪৭ টাকা সাশ্রয়ী বিমান ভাড়ায় ঢাকা থেকে ফু কুওক পর্যন্ত আসা যায়। দ্বীপের প্রধান শহর ডুং ডং-এ এক সপ্তাহের জন্য ভ্রমণ খরচের পরিমাণ হতে পারে জনপ্রতি প্রায় ১২,৭৭,০৮১ ভিয়েতনামিজ ডং বা ৫৪,০৭০ টাকা (১ ভিয়েতনামিজ ডং= ০.০০৪৫ বাংলাদেশি টাকা)। এখানে একজনের রাত্রি যাপন বাবদ স্বাভাবিক খরচ ৯,৮৬,২৪৪ ভিয়েতনামিজ ডং বা ৪,৪১৫ টাকা। সারাদিনের খাবারের জন্য গুনতে হবে মাথাপিছু ২,৮৬,২৪৫ ভিয়েতনামিজ ডং, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১,২৮১ টাকা।

ভিয়েতনাম ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকরা সম্পূর্ণ অনলাইনে ই-ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন। পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই ছয় মাসের বেশি হওয়া এবং তাতে কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা অবশিষ্ট থাকা আবশ্যক।

মালদ্বীপ ভ্রমণের সঙ্গে খরচের তারতম্য

মালদ্বীপ ভ্রমণে সাধারণত খাবারের জন্য ১,২০৫ মালদ্বীপের রুফিয়া বা ৮,৫৭৩ টাকার (১ মালদ্বীপের রুফিয়া= ৭.১২ বাংলাদেশি টাকা) বাজেট রাখতে হয়। শহরের ভেতরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য যাতায়াত বাবদ রাখতে হয় ২,১৪০ মালদ্বীপের রুফিয়া বা ১৫,২২৬ টাকা। সবচেয়ে জনপ্রিয় শহর মালেতে দুইজনের জন্য হোটেল ভাড়া দিনপ্রতি ৩,৬২১ মালদ্বীপের রুফিয়া বা ২৫,৭৬৩ টাকা।

তবে বিভিন্ন পর্যটন মৌসুমে, বিমান ভাড়া জনপ্রতি ২৪৮ মার্কিন ডলার বা ২৭,২৪১ টাকার (১ মার্কিন ডলার= ১০৯.৮৫ বাংলাদেশি টাকা) মত সাশ্রয়ী রেটে নেমে আসতে পারে।

শেষাংশ

মালদ্বীপের বিকল্প হিসেবে এশিয়ার এই ১০টি টুরিস্ট স্পটের কোনো কোনোটি মালদ্বীপের বাইরেও নতুন কিছুর অভিজ্ঞতা দিতে পারে। তনুমধ্যে ফিলিপাইনের বোরাকে ও এল নিডো এবং মালয়েশিয়ার পারহেনশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও ল্যাঙ্কাউই দ্বীপ সমস্ত এশিয়ার সেরা দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার গিলি দ্বীপমালাতে বিভিন্ন কার্যক্রম উপভোগসহ সবচেয়ে কম খরচে ঘুরে আসতে পারেন। এই তালিকায় ল্যাঙ্কাউই ভ্রমণ খরচ সবার ঊর্ধ্বে, তবে তা অবশ্যই মালদ্বীপ থেকে অনেক কম।

   

About

Popular Links

x