ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মির। মুসলিম প্রধান রাজ্যে উধোমপুর হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। সেখানকার এক দম্পতি বাঁশ শিল্পকর্মকে নতুন এক জীবন দিয়েছেন। বর্ষ পুরনো এ শিল্পকর্মকে মিনা দেবী এবং বিশান দাস দম্পতি শুধু যে নবজীবন দিয়েছেন তাই নয়, বহুযুগ পুরনো হস্তশিল্পের সাথে ঘটিয়েছেন আধুনিক প্রযুক্তির চমৎকার মিশ্রণ।
জম্মু-কাশ্মির সরকারের কারখান্দর স্কিমের আওতায় এলাকাটির সার্বিক বিলুপ্তপ্রায় শিল্পকর্ম পুনরুদ্ধারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যার সহায়তায় মিনা বিসানের মতো বহু দম্পতি বিলুপ্তপ্রায় এসব শিল্পকে আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
২০২১ সালের “আত্মনির্ভর ভারত” উদ্যোগের অংশ হিসেবে জম্মু-কাশ্মিরের শিল্প ও কলা বিভাগ খারখান্দার স্কিম হাতে নেয়। স্কিমটি প্রদেশটির হস্ত ও কুটিরশিল্পে লক্ষণীয় পরিবর্তন এনেছে।
স্কিমটির আওতায় উধোমপুরের কারুশিল্পীদের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত শিল্পিরা যাতে কম সময়ে বাঁশ প্রস্তুত করতে পারে এবং অধিক লাভবান হতে পারে। শিল্পকর্মের জন্য বাঁশ প্রস্তুত করতে যেখানে অনেক বেশি পরিশ্রম করেও অনেক কম-মূল্য শিল্পীদের এই শিল্প বিমুখ করে তুলেছিল। প্রযুক্তির ব্যবহারে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শিল্পীদের অনুকূলে।
এই উদ্যোগটিকে ভারতের স্বনির্ভরতা অর্জন এবং “স্বর্ণ-হস্ত” প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। আরও বলা হয় স্কিমটি ভারতের বিলুপ্তপ্রায় শিল্পের শ্বাসযন্ত্রের মতো, যা একে নতুনভাবে বাঁচিয়ে তুলেছে।
মিনা দেবী যিনি কিনা এই সফলতার গল্পের মূল চরিত্র, ১৯৮২ সালে ভাগপুর বাঁশ শিল্পকর্মের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কাজ শিখেছেন।
মিনা দেবী এবং তার স্বামী বিসান দাস দুজনই এখন সরকার প্রদত্ত যন্ত্রের সাহায্যে তাদের শিল্পকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন উধোমপুরে। এসব আধুনিক যন্ত্রগুলো শুধু তাদের সময়ই বাঁচায়নি তাদের আয় এবং পন্যের উৎপাদন হারও অনেক বৃদ্ধি করেছে।
দম্পতিটি তাদের আগেকার সময়গুলোর কথা বলেন যখন তাদের একটি পণ্য তৈরিতেও অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হতো, ফলে অনেক পরিশ্রম করেও তারা তাদের অবস্থার কখনোই খুব বেশি উন্নয়ন করতে পারেননি। মিনা দেবী এবং বিসান দাস ভারত সরকারের প্রতি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য যা তাদের জীবনকে অনেক বেশি সহজ ও সুন্দর করে তুলেছে।
মিনা দেবী বলেন, “আমি এবং আমার স্বামী এ কাজের সাথে যুক্ত। পূর্বে সবকিছু হাতের সাহায্যে করা হলেও এখন সব মেশিনে হচ্ছে। বাঁশ জোগাড় থেকে শুরু করে কাজের জন্য প্রস্তুত করা পর্যন্ত অনেক পরিশ্রমের ছিল যা এখন খুবই সহজ। সরকারের এ উদ্যোগ আমাদের জীবন পাল্টে দিয়েছে।”
এদিকে বিসান দাস বলেন, “আমি ২০১৮ সালে অবসরে আসার পর থেকে স্ত্রীর সাথে হস্ত শিল্পের কাজ করছি। আমি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই মেশিন কেনার টাকা দেওয়ার জন্য, সর্বোপরি উদ্যোগটা নেওয়ার জন্য। আমরা দশজন নারী শিল্পীকে এই কাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং এসব পণ্যের চাহিদাও দিন দিন অনেক বাড়ছে।”
মিনা দেবী এবং বিসান দাস ল্যাম্প, ট্রে, পতাকা সহ বিভিন্ন ঘর সাজানোর পণ্য তৈরি করেন। তারা ভারত সরকারের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মির ইউনিয়ন টেরিটোরি প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী এসব শিল্পকে আবার পুনরুজ্জীবিত করায় তাদের সাহায্য করার জন্য।
কারখান্দার স্কিম শুধু আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পীকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং পন্য বাজারজাতকরণে সাহায্য করছে। এই চমৎকার উদ্যোগটি মিনা দেবী এবং বিসান দাসের মতো বহু শিল্পীকে ক্ষমতায়ন করা, ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ভরতের অর্থনীতির উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।
তানজিনা আমান তানজুম



