বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মানবদেহে রিওভাইরাস নামে একটি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরীক্ষায় দেশে পাঁচজনের শরীরের এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
তবে আক্রান্ত এই পাঁচজনের কারও ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।
রিওভাইরাস কী
রেসপিরেটরি এন্টেরিক অরফান ভাইরাস সংক্ষেপে রিওভাইরাস নামে পরিচিত। রিওভাইরাস মূলত একটি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) ভাইরাস। রিওভাইরাস রিও-ভাইরিডি গ্রুপের ভাইরাস।
জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিওভাইরাস বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হলেও এটি নতুন কোনো ভাইরাস না। বিশ্বে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে আরও অন্তত ৭৫ বছর আগে।
চিকিৎসা গবেষকদের মতে, বিশ্বে এ পর্যন্ত রিওভাইরাসের নয়টি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
লক্ষণ
গবেষক ও চিকিৎসকদের মতে, রিওভাইরাসে রেসপিরেটরি অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো উপসর্গ -যেমন হাঁচি-কাশি, জ্বর ও ঠাণ্ডা হয়ে থাকে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া রিওভাইরাসের সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে বলে জানান চিকিৎসকরা।
সংক্রমণ মারাত্মক হলে নিউমোনিয়া, এমনিক মস্তিষ্কের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্করা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
রিওভাইরাস যেভাবে ছড়ায়
বাংলাদেশে যে রিওভাইরাস পাওয়া গেছে সেটা বাদুড় থেকে এসেছে। অর্থাৎ বাদুড়ের রিওভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করছে আইইডিসিআর।
রিওভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী ও মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সংক্রমিত প্রাণীর লালা, মল-মূত্রের মাধ্যমে দূষিত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে অন্যের শরীরের প্রবেশ করতে পারে রিওভাইরাস।
প্রতিরোধ
রিওভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি কিংবা কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক ও গবেষকরা।
তবে যেহেতু বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই ধরনের ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে তাই বাড়তি কিছু সতর্কতার কথাও বলছেন তারা।
বাংলাদেশে যারা রিওভাইরাস পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন তাদের সবারই কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার হিস্টোরি ছিল। তাই এই ভাইরাস এড়িয়ে চলতে হলে খেজুরের কাঁচা রস না খাওয়াই ভালো।
এছাড়া হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার ও খাবারের সুরক্ষা এ ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।
চিকিৎসা
রিওভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় সরাসরি অ্যান্টিভাইরাল কোনো ওষুধ নেই, রোগীকে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা।
রিওভাইরাসের প্রতিরোধের জন্য টিকা (রিওভাইরাস ভ্যাকসিন) আছে, যা শিশুদের জন্য দেওয়া যেতে পারে।



মাস্ক-স্যানিটাইজার-দূরত্বে কি এইচএমপিভি ঠেকানো সম্ভব?