যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আবুগারবিয়েহকে তার বাবা-মা’র বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আটকের সময় আবুগারবিয়েহ ওই বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।
হিশামকে গ্রেফতার করার এক ভিডিওতে দেখা যায়, আবুগারবিয়েহ হাত ওপরে তুলে বাড়ির সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। এ সময় তিনি কেবল তোয়ালে পরা ছিলেন।
হিশাম আবুগারবিয়েহর অপরাধমূলক কাজ
আদালত ও শেরিফ অফিসের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে হিশাম সম্পর্কে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে-
হিশাম ইউএসএফের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। অর্থাৎ গ্রেপ্তারের সময় তিনি আর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না।
আদালতে রেকর্ডে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত করা, একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও সে সময় এগুলোকে অপেক্ষাকৃত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি ।
হিলসবোরো কাউন্টি আদালতের নথিতে আরও দেখা যায় যে, হিশামের সহিংস আচরণের কারণে তার নিজের পরিবারের এক সদস্য তার বিরুদ্ধে দুটি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশন বা পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করারও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি
হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হিশামকে কয়েকটি অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মরদেহ সরিয়ে ফেলা, আলামত নষ্ট করা, নিজেকে মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতাও রয়েছে।



