গাজাগামী ত্রাণবাহী জাহাজ ‘ফ্লোটিলা’ আটকে দেওয়ার ঘটনায় মিত্র দেশ ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
একইসঙ্গে যেসব ইউরোপীয় দেশ থেকে জাহাজগুলো রওনা হয়েছে, তাদের এই ধরনের ‘স্টান্টবাজি’ বা ‘লোকদেখানো কাজে’ সহায়তা না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বন্দরগুলো সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় দেশের অভ্যন্তরীণ জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। এসবের ওপর ওই দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব থাকে।”
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানান, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ২১১ জন ব্যক্তিকে আটক করেছে ইসরাইল। আটকদের মধ্যে প্যারিসের একজন সিটি কাউন্সিলর।
মার্কিন মুখপাত্র টমি পিগট আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র তার সব মিত্র দেশের কাছে প্রত্যাশা করে যে, তারা এই অর্থহীন রাজনৈতিক স্টান্টবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এসব জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দেওয়া, যাত্রা শুরু করা কিংবা জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা এই হামাস-সমর্থিত জাহাজ বহরকে সহায়তা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া এই জাহাজের বিরুদ্ধে আমাদের মিত্ররা যেসব আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, আমরা তা সমর্থন করি।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় টানা দুই বছর ধরে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এতে উপকূলীয় এই অঞ্চলটি বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের এই দীর্ঘ অবরোধ ভেঙে গাজায় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীরা এই জাহাজটি নিয়ে রওনা হয়েছিলেন।
এদিকে, ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরাইলি হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্পেন। এ ঘটনায় মাদ্রিদে নিযুক্ত ইসরাইলি চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করা হয়েছে। উল্লেখ্য, স্পেনের বর্তমান বামপন্থী সরকারের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়।



