ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরিল্লিতে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে মসজিদের এক ইমামকে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মাওলানা তৌসিফ রেজা (৩২), যিনি পেশায় মসজিদের ইমাম এবং আদতে বিহারের বাসিন্দা। ২৭ এপ্রিল সংঘটিত এই ঘটনায় সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপ সামনে আসার পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করেছিল, ট্রেন থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে তৌসিফ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে নিহতের পরিবার একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করার পর ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। ফোনের সেই রেকর্ডিংয়ে তৌসিফকে বলতে শোনা যায়, ট্রেনের ভেতর কিছু লোক তাকে ভয়াবহভাবে হেনস্তা ও নির্যাতন করছে।
তৌসিফের চাচা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানিয়েছেন, “আমাদের দৃঢ় ধারণা, তাকে ট্রেনের ভেতর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করার পর বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।” এই ঘটনায় আজ তৌসিফের পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি হত্যা মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, তৌসিফ তার স্ত্রী তাবাসসুমকে ফোনে বিপদের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলছিলেন, একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করছে এবং তিনি দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানাবেন। একটি ভিডিও বার্তায় তাবাসসুম জানান, তার স্বামী যখন তাকে হেনস্তার কথা বলছিলেন, তখন তিনি অন্য যাত্রীদের সহায়তা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তৌসিফ কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাকে ‘চুরির অপবাদ’ দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হচ্ছে।
তাবাসসুমের অভিযোগ, পুলিশ শুরুতে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ দাবি করেছিল যে, তৌসিফ তার ভারী লাগেজসহ ট্রেন থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। কিন্তু এখন অডিও প্রমাণ সামনে আসায় পরিবারের দাবি, এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নয় বরং ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড।
উত্তরপ্রদেশের বেরিল্লি এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রেন ভ্রমণের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করে এমন বিদ্বেষমূলক হামলার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এখন মামলার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।



