Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মানবপাচারের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সি

ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরস লিমিটেড এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াইয়ের জন্য প্রতারণার মাধ্যমে লোক পাঠানোর অভিযোগে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান “ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরস লিমিটেড” এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশন জানিয়েছে, উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় পাঠানো এবং পরে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সঙ্গে ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’ জড়িত। একই অভিযোগে আরও ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন এবং ইউক্রেইন যুদ্ধে জনবল সরবরাহে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক চক্রকে লক্ষ্য করে মোট ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই চক্র বিদেশি অভিবাসীদের প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ করে যুদ্ধের সম্মুখভাগ ও অস্ত্র কারখানায় পাঠাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

“গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্রাফিকিং স্যাংশনস রেগুলেশন” এর আওতায় ড্রিম হোম ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাজ্যে থাকা সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সের্গেই মেরজলিয়াকভ ও আবিদ কালিদ শারিফ আবিদ। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে লোক নিয়োগ করে ইউক্রেইন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফিনল্যান্ড ও পোল্যান্ডকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ হাজার বিদেশি যোদ্ধাকে রাশিয়ার হয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউরোপে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে। পরে তাদের অনেককে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রথম চার মাসের মধ্যেই নিহত হন। অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং সেনা কর্মকর্তাদের নির্যাতনের কারণে তাদের এমন পরিণতি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

   

About

Popular Links

x