উত্তর ভিয়েতনামের হুং ইয়েন প্রদেশে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি মেগা-প্রকল্প ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গলফ কোর্স, পাঁচতারকা হোটেল এবং বিলাসবহুল আবাসন নির্মাণের জন্য শত বছরের পুরোনো একটি সমাধিক্ষেত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাউ নিন কমিউনের ফলবাগানঘেরা ওই এলাকায় কয়েক প্রজন্ম ধরে কৃষক পরিবারগুলো নিজেদের জমির পাশে স্বজনদের সমাহিত করে আসছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এখন অনেক পরিবারকে তাদের পূর্বপুরুষদের কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ অন্যত্র স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাধিক্ষেত্রজুড়ে ভাঙা সমাধিফলক, আধপোড়া ধূপকাঠি এবং চিহ্নিত কবর ছড়িয়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটি সমাধিতে ‘এক্স’ চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, যা থেকে মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ফুলচাষি ত্রান মিন হাই বলেন, প্রকল্পের কারণে মানুষ তাদের পূর্বপুরুষদের কবর সরাতে বাধ্য হচ্ছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার ভাষায়, প্রাচীন ভিয়েতনামি প্রবাদ অনুযায়ী মৃতদের শান্তিতে বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়।
তবে সব পরিবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। অনেকেই এখনও কবরস্থান সরানোর বিরোধিতা করছেন। ফলে প্রায় ৯৯০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত প্রকল্পটির বাস্তবায়নেও বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং তাদের স্থানীয় অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে ভিয়েতনাম-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন বলেছিলেন, প্রকল্পটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক ট্রাম্প প্রকল্পটিকে “এশিয়া ও বিশ্বের জন্য ঈর্ষণীয়” বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই ভিয়েতনাম সরকার প্রকল্পটির অনুমোদন দ্রুত দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশল হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
তবে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি ক্রমেই বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম ধাপে প্রয়োজনীয় ৫০০ হেক্টর জমির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র এক-তৃতীয়াংশের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে।
প্রকল্পটির কারণে চার হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্যে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করছে প্রশাসন। কৃষিজমির জন্য প্রতি বর্গমিটারে মাত্র ৩ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্ষতিপূরণ প্রস্তাব করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
৬৩ বছর বয়সী স্থানীয় কৃষক গুয়েন ডুক থিও বলেন, শুরুতে এলাকার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছিল। তবে ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষের কারণে এখন অনেকেই জমি ছাড়তে অনিচ্ছুক।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন জটিলতায় এর বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।



