Sunday, June 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশকে ২,৮৬০ জনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনুরোধ ভারতের

দিল্লির দাবি, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তারা বর্তমানে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছেন

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

ভারত সরকার বাংলাদেশের কাছে ২,৮৬০ জনের নাগরিকত্ব যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক এবং বর্তমানে তারা অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছেন। নাগরিকত্ব নিশ্চিত হলে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ‘বাংলাদেশি অভিবাসী’ যাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে, তারা সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়েছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে ২,৮৬০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা মনে করি, তারা বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারতে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে এখনও কোনো জবাব পাইনি।”

তিনি বলেন, “ভারতে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিক, এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিরাও আছেন; যদি তারা অবৈধভাবে এ দেশে থাকেন, তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি জানান, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে ভারত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য বাংলাদেশের কাছে পাঠায়। বাংলাদেশ নাগরিকত্ব যাচাই করার পর বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ঢাকায় পাঠানো এ ধরনের বহু অনুরোধ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, এগুলো দ্রুত সম্পন্ন হবে। যাতে করে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বহিষ্কার কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।”

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা, বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে প্রায় ৪০০ অনথিভুক্ত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) কার্যক্রম সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এর ফলে অনেকেই সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছেন।

ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ অভিবাসনের বিষয়টি দুই দেশের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নিয়মিত আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকও রয়েছে। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ যাতায়াত ঠেকাতে দুই দেশ যৌথভাবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজেও সহযোগিতা করছে।

চলতি বছরের মে মাসে দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ইস্যু উত্থাপন করে। তখন ভারত আশা প্রকাশ করেছিল, বাংলাদেশ নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবে, যাতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সহজ হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আলোচনায় আসে।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার একদিন পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে উদ্ধৃত করে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়, সীমান্তবর্তী রাজ্যটিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যদি পুশ ইন বা জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে পাঠানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে ঢাকা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

   

About

Popular Links

x