Sunday, June 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পালিয়ে বিয়ে করায় থানার মধ্যেই মেয়েকে মেরে ফেললেন বাবা-মা

মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছিলো

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ থানা চত্বরের ভেতরেই বাবা-মায়ের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নিহত ১৯ বছর বয়সী শিবানী গত ১৮ মে তার প্রতিবেশী ললিত বর্মার হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা একটি মন্দিরে গিয়ে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং আইনিভাবে তাঁদের এই বিয়ে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) করেন।

শিবানী বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ললিতের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নবদম্পতিকে খুঁজতে তৎপরতা শুরু করে। শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে তারা প্রতিবেশী রাজ্য মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উত্তরপ্রদেশের বান্দা থানায় নিয়ে আসে।

থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শিবানী ও ললিত উভয়েই পুলিশকে স্পষ্ট জানান যে, তারা নিজেদের স্বেচ্ছায় এবং পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে করেছেন। নিজেদের দাবির সপক্ষে তারা বিয়ের যাবতীয় আইনি নথিপত্রও পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন।

শিবানীর বক্তব্য রেকর্ড করা এবং তার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে উপস্থিত হন। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই একটি সমঝোতা বৈঠক বা কাউন্সেলিং সেশনের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে শিবানীর বাবা-মা তাকে তাদের সাথে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। তবে শিবানী তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং স্বামী ললিত বর্মার সাথেই সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এই বিষয়টি নিয়ে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি আচমকা হিংসাত্মক রূপ নিলে শিবানীর মা রান্নো পেছন থেকে নিজের মেয়েকে শক্ত করে চেপে ধরেন। ঠিক তখনই কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের হতভম্ব করে দিয়ে শিবানীর বাবা হঠাৎ একটি ধারালো ছুরি বের করে নিজের মেয়ের ওপর উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন।

বাবার এই আকস্মিক ও নৃশংস ছুরিকাঘাতে শিবানীর পেট ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শিবানী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বান্দা জেলার পুলিশ সুপার পলাশ বানসাল এই লোমহর্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনার মূল অভিযুক্ত শিবানীর বাবাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং মায়ের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

   

About

Popular Links

x