ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি ব্যস্ত বাজারে ক্রেতাদের নতুন এক সার্ভিস দিচ্ছে নতুন একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে কেনাকেটা করার ক্ষেত্রে ব্যাগগুলো বয়ে নিয়ে বেড়ানোর সুবিধা দিচ্ছেন তারা।
রবিবার (১৪ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানটির সেবা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গত এপ্রিলে চালু হওয়া ‘ক্যারি-মেন’ নামের এই স্টার্টআপ দিল্লির লাজপতনগর বাজারে ক্রেতাদের জন্য নারী ও পুরুষ সহকারী ভাড়া দিচ্ছে। তারা সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ক্রেতাদের কেনাকাটায় সাহায্য করবেন। প্রথম ৩০ মিনিটের জন্য ভাড়া শুরু হয় ৭৯ রুপি থেকে। আর এক ঘণ্টার জন্য খরচ পড়বে ১৪৯ রুপি।
ক্রেতাদের বড় একটা অংশ বলছেন, ‘ক্যারি-মেন’-এর সহকারীরা তাদের জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছেন।
তবে এই সেবাটি নিয়ে একটি বিতর্কও আছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি কি অতিরিক্ত সুবিধাভোগী হয়ে উঠছে? আর এই সহকারীরা কি আসলে শোষণমূলক কাজে নিযুক্ত আধুনিক যুগের ‘কুলি’?
‘ক্যারি-মেন’ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ভারতের ২ বন্ধু রিতু কান্দারি শ্রীবাস্তব এবং কনিষ্কা মালহোত্রা। তারা দুজনই নারী।
রিতু বলেন, “গত বছর কনিষ্কা আর আমি আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে লাজপত নগরে গিয়েছিলাম। তখন এই আইডিয়াটা মাথায় আসে। এক হাতে সব শপিং ব্যাগ আর অন্য হাতে বাচ্চাদের প্র্যাম সামলাতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছিল।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা এক বৃদ্ধাকেও তার ব্যাগ নিয়ে কষ্ট করতে দেখেছিলাম। আমরা তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নিজেদের জিনিসপত্রই সামলাতে পারছিলাম না। বিষয়টা খুব হতাশাজনক ছিল। তখনই আমাদের মনে হলো, যদি টাকার বিনিময়ে এমন কোনো সাহায্য পাওয়া যেত, তবে কেনাকাটায় যাওয়ার জন্য আমাদের আর পরিবারের সদস্যদের কাছে মিনতি করতে হতো না।”
ওই দিনই দুই বন্ধু তাদের পরিবারের সঙ্গে আইডিয়াটি নিয়ে আলোচনা করেন এবং ‘ক্যারি-মেন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন।
পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে তারা নিজেদের কোম্পানির নিবন্ধন করেন, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ও পুলিশের সব অনুমতি নেন এবং লাজপত নগরে একটি বুথ স্থাপন করেন কাজ পরিচালনা করছেন।
এরপর তারা পাঁচজন যুবক এবং পরে আরও দুজন নারীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এক মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণের পর তারা এই সেবা চালু করেছেন। বর্তমানে তাদের এই সেবা বিশেষ এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাবহারকারীদের মধ্যে।



