শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ফ্লিট অ্যাডমিরাল ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলেকে যোগ্যতা ছাড়াই অবৈধভাবে নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছিলেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন হেফাজতে নিয়েছে। ২০০৬ সালে যোগ্যতা ছাড়াই যোশিথা রাজাপাকসকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় কয়েক দশক ধরে চলা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের অবসানের সময় ২০০৯ সালে কারান্নাগোদা নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০১৯ সালে তাকে ফ্লিট অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে তিনি অবসরে আছেন।
ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (ব্রাইবেরি কমিশন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যোশিথা রাজাপাকসকে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ফ্লিট অ্যাডমিরাল দুর্নীতিমূলক অপরাধ করেছেন।
কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধেরও অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ব্রিটেন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ জন তরুণকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।
২০২১ সালের অক্টোবরে মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের প্রশাসন পরে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে।
এদিকে, গত মাসে যোশিথা রাজাপাকসে সংশ্লিষ্ট আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের ডার্টমাউথ নৌ কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতি ও আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ দমনের অঙ্গীকার নিয়ে দিসানায়েকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজাপাকসে পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো গতি পেয়েছে। বিগত বছরগুলোতে রাজাপাকসে পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আনা হয়। এসব মামলার সবগুলোই এখনও আদালতে বিচারাধীন।



