ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে টানা ২৬ দিন পর অবশেষে ভাঙলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে হরিয়ানার গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এবং লিখিত আশ্বাসের পর তিনি তরল খাবার গ্রহণ করে অনশন ভাঙেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং, লেহ-লাদাখের অ্যাপেক্স বডির প্রতিনিধিরা, চিকিৎসক এবং ওয়াংচুকের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজ হাতে তাকে পানীয় খাইয়ে অনশন ভাঙাচ্ছেন।
অনশন ভাঙার পর ওয়াংচুক বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত যে আজ অনশন শেষ করতে পারছি। সবাইকে ধন্যবাদ।” এরপর স্ত্রী গীতাঞ্জলির দিকে তাকিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “গীতাঞ্জলি সব সময় আমার পাশে থেকেছে। শুধু ধন্যবাদ নয়, আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।”
এর আগে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা সরকারের পক্ষে একটি আশ্বাসনামা পাঠ করে শোনান।
তিনি বলেন, “দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া প্রশ্নফাঁস রোধ এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস আগেই দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।’
এই ঘোষণার পরপরই ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিংয়ের হাত ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ এবং অনশন ভাঙতে পেরে আনন্দিত।”
অনশন ভঙ্গের পর ওয়াংচুক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নিজের মতামত ও দাবি প্রকাশ করা একটি সম্পূর্ণ বৈধ অধিকার। তবে আমি কোনো ধরনের সহিংসতা সমর্থন করি না। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ ফায়দা লুটুক—তা আমার কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
সোনম ওয়াংচুক অনশন ভঙ্গ করার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে লিখেন, “আমি সোনমজিকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চলেন এবং যত দ্রুত সম্ভব আগের ওজন ও সুস্থতা ফিরে পান। সর্বশক্তিমানের কাছে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।” মোদীর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর তা রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও আন্দোলন থেকে সরে আসেনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াংচুককে তার অসাধারণ সাহস ও আত্মত্যাগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেন, 'নিজের জীবন বাজি রেখে আপনি গোটা দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। আপনার জীবন দেশের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।'
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।



