Saturday, August 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১টি শর্ত মানলেই অস্ত্র ছাড়তে রাজি হামাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির ঘোষণা দেন

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ বন্ধে একটি নতুন চুক্তির কাঠামোয় সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ ও নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়েছে সংগঠনটি। এর বিনিময়ে গাজা উপত্যকা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ জানায়, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের একটি রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে।

তবে এখনো প্রকাশ্যে এ চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি ইসরায়েল। অন্যদিকে হামাসও স্পষ্ট জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার না করলে তারা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার কোনো ধাপ বাস্তবায়ন করবে না।

হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেন, ‌‌‘‘ইসরায়েল নিজেদের দায়িত্ব পালন না করলে হামাসও চুক্তির কোনো অংশ কার্যকর করবে না।’’ তিনি জানান, গাজার অস্ত্রের তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকবে একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে হামাসের অস্ত্রের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপে ভারী অস্ত্র, অস্ত্রের গুদাম, অস্ত্র তৈরির স্থাপনা এবং সুড়ঙ্গগুলো নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

এ কার্যক্রম তদারক করবে একটি আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী। নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি হলে ধাপে ধাপে গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ২০০ থেকে ৩০০ দিন সময় লাগতে পারে। এ জন্য প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটির কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কমিটিতে হামাসের কোনো প্রতিনিধি থাকবে না।

তবে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। গাজায় হামাস ছাড়াও আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইসরায়েল চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। কারণ আগের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার অভিযোগ উঠেছিল।

এদিকে গাজার বাসিন্দারা নতুন এই চুক্তিকে সতর্ক আশাবাদের চোখে দেখছেন। তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার সুযোগ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা চান।

   

About

Popular Links

x