Sunday, August 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজায় দাফনের জায়গাও নেই!

বাধ্য হয়ে পুরোনো কবরেই নতুন করে মরদেহ দাফন

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ইসরায়েলের অবিরত হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে মৃত্যুর পরও মিলছে না শেষ আশ্রয়ের স্থান। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে কবরস্থানগুলোর আয়তন, যার ফলে স্বজনদের শেষ বিদায় ও দাফন সম্পন্ন করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। বাধ্য হয়ে অনেকে একই পুরোনো কবরে বা পূর্বপুরুষদের কবরেই নতুন করে মরদেহ দাফন করছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গাজার জেইতুন এলাকার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহিরের দুঃখজনক গল্প। গাজা সিটির ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকার কাছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ওমরের ৪০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ। বাবাকে দাফন করতে গিয়ে তীব্র জায়গার সংকটে পড়েন ওমর। শেষ পর্যন্ত নতুন কবরের জায়গা না পেয়ে এবং অতিরিক্ত খরচের যোগান দিতে না পেরে ওমরের বাবাকে তাঁর দাদার পুরোনো কবরেই দাফন করতে হয়।

গাজার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ৪০টিরও বেশি কবরস্থান সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া বহু এলাকা সামরিক বেষ্টনীতে পরিণত হওয়ায় সেখানে প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ইকরামি আল-মাদালাল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই গাজার প্রায় ৬০টি কবরস্থান পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাজার হাজার শহীদের দাফন নিশ্চিতে নতুন কবরস্থান তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংকট শুধু জায়গার অভাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় সিমেন্ট, ইট ও অন্যান্য উপকরণের অভাবেই এখন একটি কবর প্রস্তুত করতে ৭০০ থেকে ১ হাজার শেকেল (প্রায় ২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার) খরচ হচ্ছে, যা অধিকাংশ সাধারণ ফিলিস্তিনির সামর্থ্যের বাইরে। ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ইট-পাথর, কাদা কিংবা টিন দিয়েই সাময়িকভাবে দাফনের চিহ্ন রেখে দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে খান ইউনিসে কবর খোঁড়ার কাজ করা ৫০ বছর বয়সী তাফেশ আবু হাতাব জানান, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তিনি কখনো দেখেননি। যুদ্ধ শুরুর আগে তাঁর কবরস্থানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজারে। যুদ্ধের তীব্র মুহূর্তে প্রতিদিন তাঁকে গড়ে ৩৫টিরও বেশি দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে, যার বড় অংশই নারী, শিশু ও নবজাতক।

বাস্তুচ্যুত শিবির, পার্ক, কিংবা হাসপাতালের চত্বরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী গণকবর থেকে বহু পরিবার এখন স্বজনদের অবশেষ তুলে নিয়ে কোনোমতে আনুষ্ঠানিক কবরস্থানে স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। তবে ধর্মীয় বিধান ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাবে সেই প্রক্রিয়াও অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।

   

About

Popular Links

x