Sunday, August 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মোজতবা খামেনি আসলে কোথায়? দ্য টাইমসের চাঞ্চল্যকর তথ্য

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তার অবস্থান ও সরকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে যৌথভাবে এক উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক গোপন অভিযান জোরদার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ এক হামলায় তাঁর পিতা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরই এই পদে তার স্থলাভিষিক্ত ঘটানো হয় বলে দাবি করা হলেও, এই তথ্যের পক্ষে নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সমর্থন মেলেনি।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে না আসা, কোনো সাক্ষাৎকার বা টেলিভিশন ভাষণ না দেওয়া এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখার কারণে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তার অবস্থান ও সরকার পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি ডিজিটাল প্রযুক্তি পুরোপুরি বর্জন করে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করছেন। এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, গত পাঁচ মাস ধরে তার কোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি কোনো ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার না করে হাতে লেখা চিরকুটের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা পাঠাচ্ছেন। এসব বার্তা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অতিবিশ্বস্ত বাহকের মাধ্যমে পৌঁছানো হচ্ছে, যার ফলে কোনো ধরনের আড়িপাতা বা ভৌগোলিক অবস্থান ট্র্যাক করা সিআইএ ও মোসাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনি তেহরানের অতি-সুরক্ষিত কোনো ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার অথবা ধর্মীয় নগরী কোমের গভীর টানেল নেটওয়ার্কের ভেতর অবস্থান করছেন। আবার কৌশলগত কারণে প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখতে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর নিরাপত্তা বা ‘ডিকয়’ ব্যবহার করছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, পিতাকে লক্ষ্য করে চালানো সেই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, তিনি জীবিত আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। নওরোজ উপলক্ষে প্রথাগত টিভি ভাষণ না দিয়ে তিনি কেবল টেলিগ্রামে একটি লিখিত বার্তা প্রকাশ করেন। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন তিনি সর্বোচ্চ নেতার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন, তবে পশ্চিমা গোয়েন্দারা ওই সাক্ষাতের সময় ও সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি।

সর্বোচ্চ নেতার জনসমক্ষে অনুপস্থিতির সুযোগে ইরানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি পারমাণবিক অবকাঠামো ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা জোরদারে প্রধান ভূমিকা পালন করছে তারা।

   

About

Popular Links

x