টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি অঞ্চলে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এই দুর্যোগে আরও অন্তত তিন জন আহত এবং দুই জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি অঞ্চলের কিছু স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গত দুদিনের ভারী বর্ষণে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই বৈরী আবহাওয়ায় দেশটির মধ্যাঞ্চলের চা-বাগানসমৃদ্ধ পাহাড়ি এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে দুটি বাড়ির ওপর ভূমিধসে মাটিচাপা পড়ে পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন এবং আরও দুই জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া বৃষ্টি ও বন্যায় ১২৯টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নৌ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু টিভির সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যায় বাড়িতে আটকে পড়া ও কাদার স্রোতে চাপা পড়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সেনাসদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন প্রধান সড়কে বড় বড় পাথর, ভূমিধসের মাটি ও উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে থাকায় অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে, গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিতওয়া’র তাণ্ডবে দেশটিতে প্রায় ৬৪০ জন নিহত হন। ওই দুর্যোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং আনুমানিক ৪১০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সর্বশেষ এই দুর্যোগের সময়ও এখনও শ্রীলঙ্কা সরকার ডিতওয়ার ফলে সৃষ্ট সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
ডিতওয়া ঘূর্ণিঝড়েও শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই অঞ্চলের সড়ক, রেলপথ ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে এখনও কাজ করে যাচ্ছে দেশটির সরকার।
প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় প্রতি বছর বন্যা ও ভূমিধস ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। বর্ষা মৌসুমের ভারী বৃষ্টিতে মূলত সেখানে মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হয়। একইসঙ্গে দেশটিতে নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা হয়। ফলে প্রতিবছর হাজারো মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।



