Tuesday, August 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলো লেবানন

দেশটির সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দিয়েছেন

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে লেবানন। এর পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি চালু করলো দেশটি। সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির সংসদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটাভুটির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের আইন বাতিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের ১২৮ সদস্যের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় দল এর বিরোধিতা করে।

দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার সংসদের এ সিদ্ধান্তকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আহ্বান জানিয়ে আসা মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, “লেবানন এমন একটি নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে এসেছে, যা কখনওই দেওয়া উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “মৃত্যুদণ্ড চরম নিষ্ঠুরতা এবং এতে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত ও ভুলের ঝুঁকি থেকেই যায়।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তবে কঠোর শ্রমের শাস্তি কিভাবে কার্যকর করা হবে, বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, নতুন শাস্তির শর্তগুলো এখনও পরিষ্কার নয়।

লেবাননের আইনে আদালতের রায় ও বিধিবিধানে ‘কঠোর শ্রমের’ শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির আর্থিক সংকট, সম্পদের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাঁসা কারাগারগুলোর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই শাস্তিও খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।

লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন সংসদে বিতর্কিত একটি সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে দেশটির ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় কিছু দণ্ড কমানো, এমনকি দণ্ডিত জঙ্গি ও মাদক কারবারিদের মুক্তিও দেওয়া হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা আইনটির বিরুদ্ধে বারবার বিক্ষোভ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা তাদের স্বজনদের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেখতে চেয়েছিলেন, কম মেয়াদের কারাদণ্ড নয়।

এদিকে, ঐতিহাসিক এই ভোটের বিষয়ে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডকে বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটি অবশ্য ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিল। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে বেশ কিছু মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য সেগুলো স্থগিত অথবা কমিয়ে দেওয়া হয়।

   

About

Popular Links

x