বিশ্বের বড় শহরগুলোতে এমন সব জায়গায় স্ন্যাকসের দোকান, সুপারমার্কেট ও মিষ্টি বিক্রির বিশেষায়িত দোকান রয়েছে যেখানে শিশুরা সহজেই অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারে। এসব জায়গার আশপাশে রয়েছে স্কুল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) নেদারল্যান্ডসের সংবাদমাধ্যম এনএল টাইমস জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বরাতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, হাতখরচের টাকা দিয়ে খাবার বা পানীয় কেনার সময় শিশুরা প্রায় সব ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেয়। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
বিষয়টিকে বেশ উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছেন ডাচ ফুড সেন্টারের বা ভোডিংসসেন্ট্রামের প্রতিনিধি লিসবেথ ভেলেমা।
ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএস-কে তিনি বলেন, ‘‘স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা উদ্বেগের কারণ। তার মতে, চিনিযুক্ত বা চর্বিসমৃদ্ধ খাবারের তুলনায় স্বাদে কম আকর্ষণীয় হতে পারে- এমন স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া শিশুদের জন্য কঠিন।’’
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা যা কেনাকাটা করে, তার তিন-চতুর্থাংশের বা ৭৫ শতাংশের বেশিই অস্বাস্থ্যকর খাবার। স্কুলের বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা সসেজ রোল, ক্যান্ডি, চিপস ও কোমল পানীয়র মতো খাবারগুলো খুব সহজেই হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির ওপর কোনও নির্দিষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞা বা নিয়মকানুন নেই। তবে স্থানীয় পৌরসভাগুলো এখন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে আমস্টারডাম ইউএমসি-এর পরিচালিত এক গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এতে বলা হয়, প্রায় ৯৪ শতাংশ মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক স্কুলের চারপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান রয়েছে। ওই সময় ১৪টি পৌরসভার একটি জোট তাদের নিজ নিজ এলাকায় নতুন দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার দাবি জানিয়েছিল।
আলমেয়ার, আমস্টারডাম, ডেন বস, লাইডেন, রোটারডাম, উট্রেখট, দ্য হেগ, ব্রেডা, গ্রোনিঙ্গেন এবং টিলবার্গ- এই শহরগুলোর খাবারের দোকান ও সামগ্রী নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়।



