Sunday, November 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইসরায়েলে ক্ষমতার পালাবদল, সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া এই আইজেনকট কে?

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দেন মাত্র ৪৬ জন আইনপ্রণেতা

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। 

রবিবার (৮ নভেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানিয়েছে, শনিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হারজগ আইজেনকটকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ । 

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে গেলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট, এমনটি মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আলজাজিরা বলছে, ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজগ।

সংসদের প্রায় ৬৭ জন আইনপ্রণেতা, পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন জানান। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দেন মাত্র ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। তাকে ১২০ আসনবিশিষ্ট ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে একটি জোট সরকার গঠন করতে হবে। সরকার গঠনের জন্য এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা। 

কে এই আইজেনকট

ইসরায়েলের একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ সামরিক জীবন শেষে রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি দেশটির অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার রাজনৈতিক মতপার্থক্যও তাকে আলোচনায় এনেছে। 

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গাজা যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল, ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার তদন্ত, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের তরুণদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

গাদি আইজেনকট ১৯ মে ১৯৬০ সালে ইসরায়েলের তিবেরিয়াস শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২১তম সেনাপ্রধান হিসেবে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে ইসরায়েলের রাজনীতিতে একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব।

১৯৭৮ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন আইজেনকট। গোলানি ব্রিগেডের মাধ্যমে তার সামরিক জীবনের শুরু। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন এবং ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতিতে প্রবেশ

২০২২ সালে বেনি গান্টজের ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টিতে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য হন। পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধ পরিচালনা ও সরকারের নীতিগত অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর বিরোধী অবস্থানে চলে আসেন।

ব্যক্তিগতভাবেও গাজা যুদ্ধের সঙ্গে তার পরিবারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় তার ছেলে গাল নিহত হন। তাঁর দুই ভাতিজাও যুদ্ধে প্রাণ হারান।

কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আইজেনকটের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে তার পরিচিতি এবং নেতানিয়াহুর সরকারের নীতির সমালোচক হিসেবে তার অবস্থান তাকে ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আইজেনকটের চার দলের জোট ৪৮টি আসন পায়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পায় ৫৩টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি।

এদিকে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।

তবে আইজেনকট আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

   

About

Popular Links

x