বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত এক মার্কিন রোগী সম্প্রতি মরণব্যাধী এইচআইভি এইডস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গবেষকরা জানান, একজন দাতার কাছ থেকে স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে ওই নারী এইডস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ডেনভারে রেট্রোভাইরাস এবং সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ইনফেকশনের সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ করেন গবেষকরা।
মিশ্র বর্ণের মধ্যবয়সী ওই নারী বিশ্বের তৃতীয় ব্যক্তি যার শরীর থেকে এইচআইভি ভাইরাস নিরাময় সম্ভব হয়েছে। গবেষকরা এই সাফল্যকে আরও বেশি মানুষের ওপর প্রয়োগের আশা করছেন।
জানা গেছে, ওই নারী তীব্র মাইলয়েড লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, এই ক্যান্সার অস্থিমজ্জার রক্ত গঠনকারী কোষে শুরু হয়। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য তাকে “কর্ড ব্লাড” দেওয়া হচ্ছিল। যার ফলে এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত “অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি” ছাড়াই ১৪ মাস তিনি ভাইরাসটি থেকে মুক্ত ছিলেন।
এর আগের দুই ক্ষেত্রেও রোগীদের শরীরে স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের ফলে তারা এইচআইভি ভাইরাস থেকে মুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, “স্টেম সেল” হচ্ছে এক রকম নতুন কোষ সরবরাহকারী। এটি বিভাজিত হয়ে নিজেদের মতো একাধিক কোষ বা অন্য ধরনের একাধিক কোষ তৈরি করতে পারে। শরীরের জন্য স্টেম সেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরে যখন কোনো কোষ আঘাত পায় তখন স্টেম সেল সেটি গঠনে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ইন্টারন্যাশনাল এইডস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত শ্যারন লেউইন একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “এটি নিরাময়ের তৃতীয় এবং এইচআইভিতে আক্রান্ত নারীদের মধ্যে প্রথম ঘটনা।”
ঘটনাটি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস-এর ডক্টর ইভন ব্রাইসন এবং বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ডাক্তার ডেবোরা পারসাডের নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর মার্কিন সমর্থিত গবেষণার অংশ।
গবেষকদের লক্ষ্য এইচআইভি আক্রান্ত ২৫ জ ক্যান্সার এবং অন্যান্য গুরুতর রোগীদের শরীরে আম্বিলিক্যাল কর্ডের রক্ত থেকে নেওয়া স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করা।
ট্রায়ালে থাকা রোগীদের প্রথমে কেমোথেরাপিদিয়ে ক্যানসারের কোষগুলোকে মেরে ফেলা হয়। তারপর নির্দিষ্ট জেনেটিক মিউটেশনসহ ব্যক্তিদের থেকে স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করা হয়।
লেউইন বলেন, “অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন এইচআইভিতে আক্তান্ত ব্যক্তিদের নিরাময়ের জন্য কোনো কার্যকর কৌশল নয়। কিন্তু গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, এর মাধ্যম এইচআইভি নিরাময় সম্ভব এবং এইচআইভি নিরাময়ের জন্য একটি কার্যকর কৌশল হিসাবে জিন থেরাপি ব্যবহার করা যাবে।”



