Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঝড়ের পর ‘দাঁড়িয়ে’ যাওয়া গাছটি কাটা হলো

আখাউড়ায় ঝড়ে হেলে পড়া গাছের ঘটনা নিয়ে এলাকায় রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের ঝড়ে শেঁকড়সহ মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছটি অবশেষে কেটে ফেলা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি কাটা হয়।

এর আগে, ঝড়ের পরে এক মাস ধরে গাছটি হেলে পড়া অবস্থায় ছিল। এ সময় ডালপালােএবং গাছের কিছু অংশ কাটা হয়। গত এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে গাছটি আবার “দাঁড়িয়ে” যায়। এমন গাছ নিয়ে এলাকায় রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়।

এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, “গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ জন্য পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় কেটে ফেলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “গাছটির কিছু অংশ কাটা বাকি ছিল। সেটি হেলে পড়েছিল কিনা সেটা জানা নেই। আমরা গাছের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি গাছটি কাটার বিষয়ে মত দেন। এছাড়া গাছ বিক্রির টাকা অনুদান হিসেবে মসজিদ বা মাদ্রাসায় দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।”

এদিকে, গাছটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তোলপাড় শুরু হয়। এটি ঘিরে মাজার করা হবে বলে অনেকে গাছটি কাটার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। কেউ কেউ বিষয়টিকে অলৌকিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজারের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ মির্জা মারুফ নামে একজন সামাজিকমাধ্যমে লিখেন, “এটাকে দ্রুত কেটে সরিয়ে নেওয়া উচিত। নইলে এখানে গেছুশাহের মাজার নির্মিত হবে। এরকম একটি গাছ শ্রীকাইলে হয়েছিল। এটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। গাছের গোড়া অর্ধেক কাটা আর ডালপালা কেটে দেওয়ায় সোজা হয়ে গেছে।”

তিনি লিখেছেন, “ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ আবার নিজে নিজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অলৌকিক কিছু নয়। বরং এটি মূলত গাছের মূলের টান, মাটির স্থিতিস্থাপকতা এবং গাছের অভ্যন্তরীণ রসের চাপের (Hydrostatic Pressure) কারণে এ রকম ঘটে।

মির্জা মারুফ লিখেছেন, “এটি কোনো রহস্যময় উত্তোলন নয়। ঝড়ের চাপ দূর হওয়ার পর উদ্ভিদের শিকড়ের ইলাস্টিক শক্তি বা স্থিতিস্থাপকতার কারণেই গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

জিলানী বাগদাদি নামে একজন লিখেছেন, “অনেকে বিজ্ঞান দেখাচ্ছে! তবে নিশ্চয়ই খোদার কেরামত বা কোনো রহস্য আছে! সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। তবে গাছকে পূজা/তাবিজ/মানত এগুলো হারাম। এখানে বিজ্ঞান নেই, থাকলে গাছ উল্টা দিকে পড়তো, গাছের ওজন ও কাটিং সম্পর্কে ধারণা থেকে ব্যাখ্যা করলাম।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় মুন্সীবাড়ির একটি পুকুর পাড়ে ডালপালাহীন গাছের একটি অংশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। উচ্চতায় প্রায় ১৫ ফুটের মতো ওই অংশটি কিছুটা সামনের দিকে হেলে থাকতে দেখা যায়। গাছের নিচের কয়েক ইঞ্চি বাদে বাকিটা কাটা। আগের মতোই শেঁকড়সহ গোড়ার অংশ মাটির উপর ও নিচে দেখা যাচ্ছে। গাছের কাটা অংশ সামনেই ফেলে রাখা ছিল।

এদিকে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ একজন এসে গাছটির নিচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে যান। এরপর অনেকেই এসে গাছের কাছে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে মানত করতে শুরু করেন। চারদিকে নিশানা টানিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

গাছকাণ্ডের এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে তারা শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের  সহযোগিতায় গাছটি কেটে ফেলেন। এর মধ্য দিয়ে গাছকাণ্ডের অবসান ঘটে।

   

About

Popular Links

x