Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আমাজন বনে যেভাবে ৪০ দিন টিকে ছিল চার শিশু

বিমানটি বিধ্বস্তের পর চার দিন তাদের মা বেঁচে ছিলেন বলেও জানায় ওই শিশুরা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ০৩:৩৯ পিএম

গত ১ মে গভীর আমাজন বনে বিধ্বস্ত হয়েছিল কলম্বিয়ার একটি বিমান। এতে পাইলটসহ প্রাপ্তবয়স্ক তিন ব্যক্তি নিহত হন। দুর্ঘটনার পর থেকে বিমানে থাকা কয়েক শিশুর খোঁজ মিলছিল না। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরসহ ১০০ সেনা মোতায়েন করা হয়।

সেই ঘটনার ৪০ দিন পর শুক্রবার (৯ জুন) গভীর বন থেকে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার চার শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশুও আছে। অন্য তিনজনের বয়স ৯ বছর, ৪ বছর ও ১৩ বছর।

উদ্ধার হওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজনের প্রথম কথা ছিল, “আমি ক্ষুধার্ত” এবং “আমার মা মারা গেছেন”। বিমানটি বিধ্বস্তের পর চার দিন তাদের মা বেঁচে ছিলেন বলেও জানায় তারা।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীরা এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান। তাদের সাক্ষাৎকারটি রবিবার কলম্বিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিসিতে সম্প্রচারিত হয়েছে।

লেসলি নামের বড় মেয়েশিশুটি উদ্ধারকর্মীদের জানান, তার মা মৃত্যুর আগে বলেন, “বাচ্চারা, তোমাদের এখান (আমাজন জঙ্গল) থেকে অবশ্যই বের হতে হবে। তোমাদের বাবা খুবই স্নেহশীল মানুষ। আমি তোমাদের যতটা ভালোবেসেছি, সেও তোমাদের ততটাই ভালোবাসা দিয়ে বড় করবে।”

নিকোলাস ওরদোনেজ গোমেজ নামের এক উদ্ধারকর্মী সাক্ষাৎকারে বলেন, “সবচেয়ে বড় মেয়েশিশু লেসলি আমার দিকে দৌড়ে আসে, তখন তার কোলে ছিল সবচেয়ে ছোট শিশুটি। সে বলেছিল, ‘আমি ক্ষুধার্ত'। বাকি দুই ছেলেশিশুর মধ্যে একটি শুয়ে ছিল। সে উঠে দাঁড়ায় এবং আমাকে বলে, ‘আমার মা মারা গেছেন'।”

এরপর ওই শিশুদের সঙ্গে ইতিবাচক কথাবার্তা শুরু করেন এই উদ্ধারকর্মী। তিনি শিশুদের বলেন, “আমাদের পাঠিয়েছে তোমাদের পরিবার, তোমাদের বাবা, কাকা। আমরা তাদের বন্ধু। ফলে আমরাও তোমাদের পরিবারের সদস্য।”

পরে উদ্ধারকর্মীরা গান ধরেন এবং শিশুদের হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করেন বলে জানান গোমেজ।

কর্তৃপক্ষ জানায়, টানা ৪০ দিন গভীর জঙ্গলে থাকার পরও এই চার শিশু বেঁচে ছিল তাদের নানির কল্যাণে। এই চার শিশুর সবচেয়ে বড়টিকে নানি খুব ছোটবেলা থেকে গভীর জঙ্গলে মাছ ধরা ও শিকারের কলাকৌশল শিখিয়েছেন।

এমনকি প্রকৃতি থেকে খাবার সংগ্রহের উপায়ও শেখানো হয়েছিল এই শিশুদের। বিমান দুর্ঘটনার পর এসব কৌশল চার শিশুকে আমাজনের গভীরে বেঁচে থাকার জন্য খাবার সংগ্রহে সহায়তা করেছে।

জাগুয়ার, বিভিন্ন প্রজাতির সাপসহ নানা বন্য পশুপাখির আবাস আমাজন বনে শিশু চারটির এতো দিন বেঁচে থাকাকে অলৌকিক বলছেন কেউ কেউ। 

কলম্বিয়ার জাতীয় আদিবাসী সংগঠনের লুই আকোস্তা জানান, শিশুরা বিভিন্ন বীজ, ফল, শিকড়বাকড় খেয়েছে। তারা যেগুলোকে খাওয়া যাবে বলে মনে করেছে, সেগুলোই খেয়েছে।

উদ্ধারের পর চার শিশুকে সেনাবাহিনীর বিমানে করে রাজধানী বোগোতায় নেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের নেওয়া হয় হাসপাতালে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইভান ভেলাসকুজ শিশুদের দেখতে হাসপাতালে যান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা সেরে উঠছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা শক্ত খাবার খেতে পারছে না।

এর আগে, এ দুর্ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক পর গভীর বন থেকে স্থানীয় হুইতুতো জাতিসত্তার চার শিশুকে জীবিত উদ্ধার করার খবর দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

   

About

Popular Links

x