অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানে চায়ের দাম প্রতি কেজি ১,৬০০ টাকা ছুঁয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই ব্যাপক সংকট মোকাবিলা করছে দেশটি।
২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি চা–বাহী কনটেইনার পাকিস্তানের বন্দরে আটকে আছে। এর জেরে গত ১৫ দিনে দেশটিতে চায়ের (খোলা) দাম ১,১০০ পাকিস্তানি রুপি থেকে বেড়ে ১,৬০০ রুপিতে পৌঁছেছে।
পাকিস্তান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফপিসিসিআই)-এর চাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির আহ্বায়ক জিসান মাকসুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া হেরাল্ড।
জিসান মাকসুদ বলেন, বর্তমানে আমদানি–সংকট চলছে। এতে মার্চে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো বলেছে তারা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (এসবিপি) থেকে ১৮০ দিনের আমদানি ঋণপত্র খোলার নির্দেশনা পেয়েছে। আর তাতে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। জিসান মনে করেন, ১৮০ দিনের বিলম্বিত অর্থ পরিশোধ চুক্তির আওতায় ছয় মাস পর আমদানি মূল্য কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, আন্তব্যাংক বাজারে ছয় মাস পরে ডলারের হার কত হবে, তা কেউ জানে না।
পাকিস্তান টি অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ)-এর নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন জিসান।
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ঋণপত্র খুলছে না। তারা বলছে, নতুন ঋণপত্র খোলার জন্য পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।
জিসানের আশঙ্কা, আটকে থাকা চালানগুলো খালাস না হলে আসন্ন রমজান মাসে চায়ের দাম কেজিপ্রতি আড়াই হাজার রুপিতে পৌঁছাতে পারে। আর সরবরাহের ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে কল্যাণ সমিতিগুলো হয়তো রেশন ব্যাগে চা–পাতা দিতে পারবে না।
জিসান মনে করেন, পাকিস্তানের উচিত কেনিয়ার সঙ্গে একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষর করা। এর মধ্য দিয়ে মোম্বাসায় অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক নিলাম থেকে কেনিয়ার ৯০ শতাংশ চা আমদানি করা যাবে। মোম্বাসার ওই নিলামে আফ্রিকা অঞ্চলের সব ধরনের চা বিক্রি হয়ে থাকে।
পাকিস্তান প্রতিবছর কেনিয়া থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের চা আমদানি করে থাকে। আর দেশটিতে শুধু ২৫ কোটি ডলার মূল্যের বিভিন্ন জিনিস রপ্তানি করে থাকে।



