বিশ্ব জুড়ে বাল্যবিবাহ কমছে। তবে যেভাবে কমছে তাতে আগামী ৩০০ বছরে এই প্রথা কমবে না। বরং কখনও এটি বৃদ্ধি পেতে পারে।
মঙ্গলবার (২ মে) জাতিসংঘের শিশু সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ক্লডিয়া ক্যাপা এএফপিকে বলেন, “গত ১০ বছরে বাল্যবিবাহের প্রথা কমাতে আমরা অগ্রগতি অর্জন করেছি। তবে সেটি যথেষ্ট নয়।”
ইউনিসেফের হিসাব মতে, বর্তমানে বিবাহিত ৬৪০ মিলিয়ন নারীর বিয়ে হয়েছে যখন তাদের বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। বছরে প্রায় ১২ মিলিয়ন কিশোরী বাল্যবধূ হচ্ছে।
তবে গত ২৫ বছরে এই ধরনের বিবাহের হার কমছে। ১৯৯৭ সালে ২০-২৪ বছর বয়সী ২৫% তরুণী ১৮ বছরের আগে বিয়ের শিকার হয়েছে। ২০১২ সালে এই সংখ্যাটি ২৩% -এ নেমে আসে ও ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৯%।
এর অর্থ হলো- ২০৩০ সালে প্রায় ৯ মিলিয়ন কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার হবে। যাদের বয়স থাকবে ১২-১৭ বছর বয়স।
ক্লডিয়া ক্যাপা বলেন, “বর্তমানে যে গতিতে চলছে, এভাবে বাল্যবিবাহ নির্মূল করার জন্য আমাদের ৩০০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।”
ইউনিসেফের আশঙ্কা কোভিড-১৯ মহামারী, বৈশ্বিক সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে বর্তমান অবস্থা নেতিবাচকের দিকে যেতে পারে।
এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০-২০৩০ এ অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার হতে পারে।
ইউনিসেফের বস ক্যাথরিন রাসেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, “বিশ্ব সংকটের শীর্ষে সংকটে আচ্ছন্ন যা দুর্বল শিশুদের আশা ও স্বপ্নকে চূর্ণ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে কিশোরীরা যাদের পড়াশোনা করা উচিত, বিয়ের কনে হওয়া নয়।”
“এই ধরনের সংকট পরিবারগুলোকে নিরাপত্তার উপায় হিসেবে শিশুদের বিয়ে করতে বাধ্য বোধ করতে পারে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাল্যবিবাহ শিশুদের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে পরিবারগুলো প্রায়ই এটিকে মেয়েদের জন্য একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসাবে দেখে। তারা মনে করে বিয়ের মাধ্যমে আর্থিক, সামাজিক বা এমনকি শারীরিক সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।”
“এমনকি বিয়ের মাধ্যমে পরিবারের একজন খাদ্যগ্রহণকারীও কমে যায়।”
“ভৌগোলিকভাবে বাল্যবিয়ে কমে আসার অন্যতম বড় অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়া।”
এই অঞ্চলে এখনও ৬৪০ মিলিয়ন নারীর প্রায় ৪৫% রয়েছে, যারা শিশু বয়সে বিয়ের শিকার হয়েছিল। যার এক তৃতীয়াংশ ভারতের নাগরিক।
তবে সাব-সাহারান আফ্রিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ইউনিসেফ। এ অঞ্চলে বাল্যবিয়ে হ্রাস করা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সেখানে কিশোরীরা এখন বিশ্বে বাল্যবিবাহের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়, যেখানে প্রতি তিনজনের একজনের বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়সের আগে।”
ইউনিসেফ আশা করে, ২০৩০ সালের মধ্যে সেখানে শিশু পাত্রীর সংখ্যা ১০% বৃদ্ধি পাবে।



