Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কয়েক বছর ধরে বৃষ্টি হয়নি কেনিয়ায়, হ্রদ বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ

জলবায়ু নিয়ে অনেক দেশই বেশ উদাসিন। কেনিয়ার অবস্থায় ভয়াবহ রকমের। দেশটি জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে এখন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে

আপডেট : ৩১ মে ২০২৩, ০৯:২১ পিএম

বিশ্বের অনেক প্রান্তে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর দীর্ঘমেয়াদি আঘাত মানুষের বেঁচে থাকাকে কঠিন করে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবু, জলবায়ু নিয়ে অনেক দেশই বেশ উদাসিন। কেনিয়ার অবস্থায় ভয়াবহ রকমের। দেশটি জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে এখন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে হ্রদ বাঁচানোর উদ্যোগ অন্যতম।

কেনিয়ায় ওলবোলোসাত হ্রদের দিকে নজর দিলেই সে দেশে খরার প্রকৃত মাত্রা বোঝা যায়। প্রায় ৯০% পানি শুকিয়ে গেছে, যেমনটা আগে কখনো ঘটেনি। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিচ্ছেন।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ক্রিস নগএটিচ মনে করিয়ে দেন, “বেশিরভাগ জলবায়ুর মডেল অনুযায়ী খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘনঘন এবং আরও মারাত্মক আকারে দেখা যাবে৷ মূলত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমনটা ঘটছে।”

স্থানীয় মানুষের জন্যও খরা বড় এক সমস্যা। অনেক চাষি নিজেদের রুজি-রুটি হারানোর আশঙ্কা করছেন৷ লাগাতার তাপপ্রবাহের কারণে গোটা দেশে চাষের খেত ঝলসে গেছে। 

স্থানীয় চাষি পল মবাতিয়া বলেন, “অবস্থা সত্যি খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের এখানে বৃষ্টি হয়নি। অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের গাছপালার বেহাল অবস্থা। আমরা বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছি।”

বছরের পর বছর ধরে ওলবোলোসাত হ্রদের এমন সমস্যার জন্য স্থানীয় হস্তক্ষেপ দায়ী। স্থানীয় সংরক্ষণ গ্রুপগুলোর সূত্র অনুযায়ী, বন নিধন ও নির্মাণ কার্যকলাপের জের ধরে হ্রদের পানিতে বিশাল পরিমাণ মাটি ফেলা হয়েছে। তার ওপর মানুষ প্রায়ই সেই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিও তুলে নেন। 

সংরক্ষণ গ্রুপের প্রধান ওয়াচিরা নজারি বলেন, “আমার পেছনের পাহাড় থেকে হ্রদের পানির কিছু অংশ আসে। পাহাড়ের মধ্যে অনেক পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি রয়েছে। সেখান থেকে পানি উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয় না।”

আরও টেকসই পদ্ধতিতে পানির ব্যবহার চাষিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটিই নাইরোবি ওয়াটার ফান্ডের অন্যতম লক্ষ্য। বৃষ্টির মরসুমে জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে খেতে সেচের ব্যবস্থা করা যায়।

সংগঠনের প্রতিনিধি জর্জ নজুগি বলেন, “ছাদ বা বাড়ির অন্যান্য অংশ থেকে গড়িয়ে পড়া পানি যাতে জলাশয়ে জমা করা হয়, আমরা তা নিশ্চিত করি। সেটি অন্যতম প্রযুক্তি। এছাড়া আমরা চাষিদের ধাপ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে শেখাই, বিশেষ করে যে জমিতে ঢাল রয়েছে। নেপিয়ার ঘাস দিয়ে সেই ধাপগুলো স্থিতিশীল করা হয়। তখন পানি আর মাটি চুঁইয়ে নদীতে বয়ে যায় না।”

এই তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ১৬ হাজার চাষিকে যুক্ত করা হয়েছে। চাষিরা তিন মাসের জন্য প্রায় ২,০০০ একর এলাকায় ফুলের চাষ করতে যথেষ্ট সেচের পানি জমা করছে।”

ডেভিড কামাউ নামে এক চাষি এই প্রকল্পের ফলে উপকার পাচ্ছেন। খরার সময়েও চাষের জন্য যথেষ্ট পানি পাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, “নাইরোবি পানি প্রকল্প আমাকে একটি ওয়াটার প্যান দিয়েছে। আমি মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজে লাগিয়ে পানি পাম্প করে একটি স্প্রিংকলার ব্যবহার করতে পারি।”

মানুষের কার্যকলাপে পরিবর্তন না এলে হ্রদের জন্য হুমকি দূর হবে না। তবে পানির আরও টেকসই ব্যবহার সেটিকে হয়তো পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে দেবে না।

About

Popular Links