দক্ষিণ সুদানে একটি উদ্বাস্তু শিবিরে “আন্তঃসাম্প্রদায়িক” সহিংসতায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে সেখানে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তবে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জুন) ২০ জনের মৃত্যুর খবর জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানায় এএফপি।
দেশটির আপার নাইল রাজ্যের তথ্যমন্ত্রী লুক সাদালা জানান, “একটি পানি সংগ্রহ কেন্দ্রে পৃথক গোষ্ঠীর নারীদের মধ্যে হওয়া ঝগড়াকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহ থেকে রাজ্যের রাজধানী মালাকালের শিবিরটিতে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।”
২০১৩ সালে দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উদ্বাস্তুদের জন্য খোলা এই শিবিরে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে আসছে। প্রতিবেশী সুদানে চলা সংঘর্ষের কারণে পালিয়ে আসা প্রায় তিন হাজার লোকও সম্প্রতি এই উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। শিবিরটিতে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দক্ষিণ সুদানে বিবদমান বড় বড় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ২০১৮ সালে এক শান্তিচুক্তি হওয়ার পর পরের বছরগুলোতে সহিংসতা অনেক কমে এলেও বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মাঝেই প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
যেসব এলাকায় চারণভূমি, পানি, কৃষিজমি ও অন্যান্য সম্পদের দখল নিয়ে বিরোধ আছে, সেসব এলাকায় সহিংসতা এখনো বিদ্যমান।
মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল ডিসেম্বরেই ওই অঞ্চলে ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে ১৬৬ জন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক।
২০১৬ সালের শুরুর দিকে মালাকালের এই শিবিরে সংঘর্ষে এমএসএফের দুই কর্মীসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিল।



