Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জার্মানির যে মিউজিয়ামে শোভা পাচ্ছে চোখ ধাঁধানো সব গাড়ি

প্রদর্শিত গাড়িগুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে মিউজিয়ামের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:৫৯ পিএম

চোখ ধাঁধানো রেসিং কার, বিরল যান, চকচকে ভিনটেজ কার। জার্মানির হেসে রাজ্যে সদ্য চালু হওয়া “জাতীয় গাড়ি মিউজিয়াম”-এ এরকম প্রায় ১৫০টি যানবাহন শোভা পাচ্ছে।

মিউজিয়ামের কিউরেটর ও সহ-নির্বাহী পরিচালক ফ্লোরিয়ান উর্বিচ বলেন, “গাড়িগুলো সব খাঁটি। কলকব্জাও ভালো অবস্থায় রয়েছে। পথে নামার জন্যও প্রস্তুত। দর্শকদের স্বার্থে বর্তমানে সেগুলো মিউজিয়ামে রয়েছে। আমরা সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে চালানোর উপযুক্ত করে রাখি।”

মিউজিয়ামের কর্ণধার ফ্লোরিয়ান উর্বিচ প্রত্যেকটি গাড়ির নানা খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানেন। তার ঝোলায় অনেক গল্পও রয়েছে। তিনি জানান, এই মিউজিয়ামে রয়েছে একটি ফর্মুলা ওয়ান ফেরারি স্পোর্টস কার। ২০০০ সালে মিশায়েল শুমাখার এটি চালিয়ে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতেন।

ফ্লোরিয়ান উর্বিচের মতে, “ফর্মুলা ওয়ান অবশ্যই স্পোর্টস কার জগতের সেরা প্রতিযোগিতা। সর্বকালের সেরা রেসার মিশায়েল শুমাখারের সঙ্গে ফেরারির বিশেষ সংযোগ রয়েছে। ফলে এখানে বিশেষ মেলবন্ধন ঘটেছে। গাড়ি বেচার ছোট বিজ্ঞাপনে এমনটা পাওয়া যায় না। কিন্তু ৩৫ বছর ধরে গাড়ি সংগ্রহ করলে যথেষ্ট যোগাযোগ গড়ে ওঠে। অন্যান্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় এবং বিরল যান সংগ্রহের সুযোগ পাওয়া যায়।”

মিউজিয়ামটির ডাকনাম হয়ে উঠেছে “দ্য লো কালেকশন”। এটি কোটিপতি ফ্রেডহেলম লোর ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ৩৫ বছর ধরে তিনি বিশেষ গাড়ির সন্ধান করে চলেছেন। তার সংগ্রহে রয়েছে বেনৎস ভিক্টোরিয়া মডেলটি অত্যন্ত পুরানো ও বিরল একটি গাড়িও। ১৮৯৬ সালের গাড়িটি একেবারে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।

উর্বিচ বলেন, “ভিক্টোরিয়া বা মিশায়েল শুমাখারের বিশ্বকাপের গাড়ি যে এখানে রয়েছে, সেটা মোটেই কাকতালীয় নয়। সাধারণ পুরানো গাড়ি বা যেকোনো ফর্মুলা ওয়ান রেসিং কার সংগ্রহে রাখা হয়নি।” খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি তার ভালোবাসা মিউজিয়ামটিকে আজকের রূপ দিয়েছে।

প্রদর্শিত গাড়িগুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে মিউজিয়ামের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে।

মিউজিয়ামে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক স্বপ্নের গাড়ি। সংগ্রহের আর্থিক মূল্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন। যেমন মাত্র একবার তৈরি মেবাক এক্সেলেরোর দাম কম করে হলেও ৮০ কোটি ইউরো। ২০০৫ সালের এই যানটি ঘণ্টায় ৩৫১ কিলোমিটার গতিবেগ ছুঁয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।

তবে সংগ্রহে আরও দ্রুতগতির গাড়িও রয়েছে। কিউরেটর ও সহ-নির্বাহী পরিচালক ফ্লোরিয়ান উর্বিচ বলেন, “এখানে বুগাটি ভাইরন সুপার স্পোর্টস মডেল শোভা পাচ্ছে। এই মডেলের মোট ৪৮টি গাড়ি তৈরি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী গাড়ি ছিল। ঘণ্টায় ৪৩১ কিলোমিটার গতির কারণে গিনিস বুকে এটির নাম উঠেছিল। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বাজারে আনা গাড়ির গতি ৪১৫ কিলোমিটারে সীমিত রাখা হয়েছিল।”

ল্য ম্যাঁসের ২৪ ঘণ্টার রেসকে উৎসর্গ করে এক বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। সেটা ছিল রেসিং জগতের চমকপ্রদ ঘটনা। দূরপাল্লার রেসিংয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ২১টি বোলিডের মধ্যে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেকটি রেসই ছিল প্রযুক্তির সম্ভাবনার সীমার মাইলফলক।

উর্বিচ বলেন, “বর্তমানে আমাদের মিউজিয়ামের সিংহভাগজুড়েই কম্বাসচন প্রযুক্তি প্রাধান্য পেলেও আমরা কিন্তু মিউজিয়াম হিসেবে ইলেকট্রোমোবিলিটি সম্পর্কে উদাসীন নই। আমাদের আশা, জার্মানির গাড়ি শিল্প এ ক্ষেত্রে সমান তালে এগিয়ে যেতে পারবে।”

জাতীয় গাড়ি মিউজিয়ামের দৌলতে ইউরোপের অন্যতম বিশাল ব্যক্তিগত গাড়ির সংগ্রহ সাধারণ দর্শকদের নাগালে চলে আসছে। অটোমোবাইল জগতের ইতিহাস এভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

   

About

Popular Links

x