উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ পছন্দের গন্তব্য কানাডা। বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী স্কলারশিপ নিয়ে বা নিজস্ব অর্থায়নে কানাডায় পড়তে যান। তবে কানাডায় পড়ালেখার জন্য গমনেচ্ছুদের জন্য আপাতত একটি দুঃসবাদ শোনা গেল।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে দেশটি। আর সেটি হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আগের মতো সহজ থাকবে না কানাডায় যাওয়া। তীব্র আবাসনসংকটের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কমানোর এমন চিন্তা করছে কানাডা সরকার।
দেশটিতে আবাসনসংকট বাড়ছে। আর এজন্য শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দায়ী করে আসছেন দেশটির অর্থনীতিবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে কানাডায় বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে দেশটি। কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী মার্ক মিলার রবিবার (১৪ জানুয়ারি) এ কথা জানান বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
কানাডা সরকারের তথ্য বলছে, দেশটিতে ২০২২ সালে ৮ লাখ শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে এসেছেন। ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার।
স্থানীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিবাসনমন্ত্রী মার্ক মিলার বলেন, “ক্ষমতাসীন লিবারেল সরকার এ বছরের প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে।”
কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ অবস্থা বিরক্তিকর। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।”
তবে বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যায় কত কমানো হবে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।
এর আগে, সম্প্রতি কানাডায় উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদনের খরচ বাড়িয়েছে কানাডার সরকার। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন এ নিয়ম চালু হয়েছে।
প্রচলিত নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কানাডায় জীবনযাপনের নিশ্চয়তার জন্য নিজেদের ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ দেখাতে হয়। গেল দুই দশক ধরে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার ডলার দেখিয়ে আবেদন করেছে। তবে, নতুন বছরে চালু হওয়া নিয়ম অনুসারে, এখন থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে ২০ হাজার ৬৩৫ ডলার দেখাতে হবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীরা কানাডায় গিয়ে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি পান। এ সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্ক মিলার।



