পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), জাতিসংঘের শিশু সংস্থা (ইউনিসেফ) ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে অনাহারের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ যেমন মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়েছে। তেমনই কৃষি উৎপাদন এই সঙ্কট বৃদ্ধি করেছে।
এরমধ্যে নাইজেরিয়া, ঘানা, সিয়েরা লিওন এবং মালি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, এই অঞ্চলে গত পাঁচ বছরে প্রধান প্রধান শস্যের দাম ১০-১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মালিতে অন্তত তিন হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হবে পারে।
ডব্লিউএফপির আঞ্চলিক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মার্গট ভ্যান্ডারভেলডেন বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রোধ করতে আমাদের সব অংশীদারদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিম আফ্রিকার ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।’’
এদিকে এই অঞ্চলে খাদ্যাভাবের কারণে শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
সংস্থাগুলো বলছে, ৬-২৩ মাস বয়সী দশ শিশুর মধ্যে আটটি শিশু সর্বোত্তম বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিমাণ খাবার পায় না।
এতে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় দেড় কোটির বেশি শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। তিন পরিবারের মধ্যে দুইটি পরিবারের স্বাস্থ্যকর খাবারের সামর্থ্য নেই।
ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক গিলেস ফ্যাগনিনু বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের শিশুদের বিকাশ নিশ্চিতে প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও যত্ন দরকার। যাতে তারা একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে থাকে এবং সঠিক শিক্ষার সুযোগ পায়।’’
তিনি বলেন, ‘‘শিশুদের জীবনে একটি স্থায়ী পরিবর্তন আনতে, আমাদের সামগ্রিকভাবে শিশুর পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন, খাদ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।’’
পশ্চিম আফ্রিকার জন্য এফএও-এর উপ-আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রবার্ট গুই বলেন, ‘‘অভূতপূর্ব খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তাহীনতা সমাধানে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য আনার জন্য নীতি গ্রহণ করা দরকার।’’



