সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে কনস্যুলেটে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস।
এক বিবৃতিতে গাজার ক্ষমতাসীন সরকার হামাস বলছে, জায়নবাদী আগ্রাসনের মুখে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ও জনগণের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
এতে বলা হয়, ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে ইরানের যে হামলা এটি তাদের অপরাধের সাজা।
গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কোতে ইরানের কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে সাতজন নিহত হয় বলে দাবি করে ইরান রেভ্যুলেশনারি গার্ডস। নিহতদের মধ্যে এলিট ফোর্স কুদসের সিনিয়র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদি এবং তার সহযোগী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাদি হাজি-রহিমিও ছিলেন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডস ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেয়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ইরান বলেছে, তেহরান তাদের কূটনৈতিক মিশনে হামলার পর “আত্মরক্ষামূলক” পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইরান তার সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর যেকোনো বেআইনি শক্তি প্রয়োগ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে থাকে।”
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে ৩০০টিরও বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে ইরান।
ইসরায়েলি মুখপাত্র বলেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় প্রায় ৯৯% ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত থেকে “দূরে থাকতে” যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে ইরান। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কো কনস্যুলেট ভবনে ভয়াবহ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান ইসরায়েলে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটনকে এমন সতর্ক করে।
গাজায় ইসরায়েলের চালানো বর্বর হামলার ছয় মাসে এসে ইরানও তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করলো।
হামাস পরিচালিত অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের আক্রমণে গাজায় কমপক্ষে ৩৩,৩৬০ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজা ছাড়াও ইসরায়েলের হামলার শিকার হচ্ছে লেবানন ও সিরিয়া।
ইসরায়েলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকে বসেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
জাতিসংঘের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তনিও গুতেরেস ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।



