Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র

  • সংঘাত এড়াতে ব্যাপক কূটনীতিক তৎপরতা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
  • গত ১৩ এপ্রিল ইসরায়েলে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা করে ইরান
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ওয়াশিংটন আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।

তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ইসরায়েলে ইরানের হামলার ব্যাপারে ‘‘বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া’’ জানানোর পরিকল্পনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও অংশীদারদের এবং মার্কিন কংগ্রেসের উভয় চেম্বারের নেতাদের সাথে একত্রে তিনি এমন পরিকল্পনা করছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

সুলিভান জানান, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, ওয়াশিংটনের মিত্র ও অংশীদাররা খুব শিগগিরই তাদের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞার পথ অনুসরণ করবে।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কোতে ইরানের কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে সাতজন নিহত হয় বলে দাবি করে ইরান রেভ্যুলেশনারি গার্ডস। নিহতদের মধ্যে এলিট ফোর্স কুদসের সিনিয়র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদি এবং তার সহযোগী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাদি হাজি-রহিমিও ছিলেন।

এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত ১৩ এপ্রিল ইসরায়েলে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা করে ইরান। এর পর থেকেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে সংঘাত এড়াতে ব্যাপক কূটনীতিক তৎপরতা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাইডেন প্রশাসন বৃহত্তর সঙ্কট এড়াতে আপাতত উত্তেজনা প্রশমন করতে চায়। এজন্য ইসরায়েলকে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে বাইডেন জানিয়ে দিয়েছেন, তেল আবিব কোনো হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে না। 

মধ্যপ্রাচ্যে বড় সঙ্কটের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস।

এদিকে ইসরায়েল ও ইরান পরস্পরকে দোষারোপ করে একে অপরের উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা চাপানোর ডাক দিয়েছে।

উত্তেজনাপূর্ণ এ সময়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানে নিজেদের সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। আরও সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন।

এদিকে একদিকে হামলার প্রতিবাদে মার্কিনিদের সংহতি অন্যদিকে তাদের সতর্কতায় দোটানায় পড়েছে ইসরায়েল। 

গত ১৪ এপ্রিল দেশের মন্ত্রিসভার যুদ্ধকালীন পরিষদের পাঁচ সদস্য ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিলেও এমন হামলার দিনক্ষণ ও মাত্রার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি।

ইরান অবশ্য পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাগেরি টেলিভিশনে বলেন, ‘‘ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালালে ইরান আরও বড় আকারের হামলা চালাবে।”

এ হামলায় ওয়াশিংটন মদত দিলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপরেও হামলার হুমকি দেন তিনি।

অন্যদিকে ইরানের হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলকে সহায়তা করায় জর্ডানে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে দেশটির নাগরিকরা। তবে দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই হামলা জর্ডানের জনগণ ও জনবহুল এলাকার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল বলেও সরকার দাবি করেছে।

   

About

Popular Links

x