মিয়ানমার জান্তার নৃশংস অভিযানে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪,৯৬২ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারসের (এএপিপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্যে গত এপ্রিলে ১২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬ জন শিশু।
গত ২২ এপ্রিল পাইন তাও ওও গ্রামে গোলাবর্ষণ করে তিন শিশু এবং এক ব্যক্তিকে হত্যা করে জান্তা বাহিনী। এই মৃতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকে ফেরার সময় শোকার্তদের ওপর আবারও গুলি করে জান্তা। এতে দুইজন নিহত হন।
এএপিপি জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে জান্তা হামলায় ১৮ বছরের কম বয়সী ৪০ কিশোরীসহ ২২৩ জন নারী নিহত হয়েছে। সাগাইং অঞ্চলে সর্বাধিক সংখ্যক ৭০ নারীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, তারপরে রাখাইন রাজ্যে ৫৩ জন।
মানবাধিকার কর্মী মা থিনজার শুনলেই ই আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক নারীকে সম্ভবত তথ্য ছাড়াই নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শাসক নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। আমাদের অনেক বোনকে এখনও নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে।”
বিদ্রোহীদের কোনো অবস্থান না থাকলেও জান্তা বাহিনী চিন রাজ্যের উন মা থু হাসপাতালে বোমা হামলা চালায়। আন্তর্জাতিক আইনের এই লঙ্ঘনের ঘটনায় চারজন রোগী ও একজন চিকিৎসাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে, প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে জান্তা অন্তত ৩৫টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হামলা করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মিয়ানমারের তিনটি জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী একজোট হয়ে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো হলো- তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি-টিএনএলএ, আরাকান আর্মি-এএ এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি-এমএনডিএএ।



