আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন মনানগাগওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করার একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছেন। নতুন আইনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রেসিডেন্ট আইনটিতে স্বাক্ষর করার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় ৬০ জন বন্দির সাজা পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। দেশটিতে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনামলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম এএফপি এ খবর দিয়েছে ।
মঙ্গলবার সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত মৃত্যুদণ্ড বিলোপ আইন বলা হয়েছে, আদালত আর কোনো অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রদান করতে পারবে না এবং যে কোনো বিদ্যমান মৃত্যুদণ্ডকে কারাবাসে রূপান্তরিত করতে হবে।
জিম্বাবুয়ে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বলা হয়েছে, আফ্রিকার ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনে আশার আলো দেখাবে এই সিদ্ধান্ত।
তবে জিম্বাবুয়ের নতুন আইনে বলা হয়েছে, দেশে জরুরি অবস্থা জারি থাকার সময় প্রয়োজনে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। এই বিধান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
ডিসেম্বরের শুরুর দিকে জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্ট ভোটাভুটির পর মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর প্রেসিডেন্ট এমারসন মনানগাগওয়া নতুন আইনটি অনুমোদন দিলেন।
বিধান বিলুপ্তির বিষয়ে জিম্বাবুয়ের বিচারমন্ত্রী জিয়াম্বি জিয়াম্বি বলেন, “মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করা আইনি সংস্কারের চেয়েও বেশি কিছু। এটা ন্যায়বিচার আর মানবতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের একটি স্বীকৃতি।”
সর্বশেষ ২০০৫ সালে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু দেশটির আদালত হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া চালু রেখেছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষের দিকে জিম্বাবুয়েতে ৬০ জনের মতো মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মানুষ ছিলেন।



